|
কাশ্মীরে নিহত বিতানের স্ত্রীকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে অধিকার বঞ্চিতের চেষ্টা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() কাশ্মীরে নিহত বিতানের স্ত্রীকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে অধিকার বঞ্চিতের চেষ্টা মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে চোখের সামনে স্বামীকে হারিয়ে সন্তানসহ গভীর শোকে স্তব্ধ সোহিনী। এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই সদ্য ওই বিধবার। তিনি শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত এবং বিপর্যস্ত। এমন অবস্থায় তাকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে অধিকার বঞ্চিত করার ঘৃণ্য চেষ্টায় নেমেছে পরিবার। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বৌমা’ সোহিনীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করেছে বিতানের পরিবার। যদিও সোহিনীর ভাইয়ের দাবি, তার বোনকে নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সবই মিথ্যা। এরইমধ্যে নিহত বিতানের নামে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ শুরু হয়েছে। সেখানে ‘বেনিফিশিয়ারি’ হিসাবে সোহিনীর নাম থাকা নিয়ে আপত্তি স্বামীর পরিবারের। কারণ তারা সরকারি-বেসরকারি কোনো সুবিধাই সৌহিনীকে দিতে নারাজ। এনিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন নেটাগরিকেরা। সোহিনীর সাথে স্বামীর পরিবারের নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে। বিতানের ভাই বিভু দাবি করেছেন, তার ভাইয়ের স্ত্রী আদতে এ ভারতের নাগরিকই নন! পেশায় আইনজীবী বিভুর মন্তব্য, ‘‘ওর (সোহিনীর) পরিচয় দিতে গেলে ইতিহাস হয়ে যাবে।’’ এমনকি অধিকার বঞ্চিত করতে ভাইয়ের স্ত্রীকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জালিয়াত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ভাইয়ের মৃত্যুতে সরকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিলে সেটা স্ত্রী হিসাবে সোহিনীর পাওয়ার আইনি অধিকার নেই বলে দাবি করেন বিভু। তার দাবি, ‘‘ওর তো ভারতে থাকার কথাই নয়। আইনগত ভাবে দেখলে কোনও ক্ষতিপূরণ ওর পাওয়ার কথা নয়। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে সেটা আমাদের বাবা-মায়ের পাওয়া উচিত।’’ একই সঙ্গে তিন বছরের ভাইপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘চিন্তিত’ বিভু বলেন, ‘‘ওর জন্ম আমেরিকায়। তাই সেটা নিয়েও জটিলতা আছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, মৃত ভাইয়ের নামে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন তারা। সেখানে অ্যাডমিন কারা, কাদের মাধ্যমে অর্থ তোলা হচ্ছে এবং ভ্রাতৃবধূর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যোগ করার কথাও জানতে পেরেছেন। পুরো বিষয়টিতে তিনি বিস্মিত। বিভু জানান, বছর দুয়েক আগে সোহিনী এবং তার মা ভারতী রায়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলা এখনও চলছে। ভারতী বাংলাদেশ চলে গিয়েছেন। তবে এ দেশে থেকে যান তার মেয়ে। বিভুর আরও দাবি, পরিচয় গোপন করে তার ভাই, পেশায় আইটি কর্মী বিতানকে বিয়ে করেছিলেন সোহিনী। বিভু বলেন, ‘সোহিনীর দুটো জন্মসনদ রয়েছে। উনি আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। পরে ওরা এ দেশের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ইত্যাদি বানিয়েছিলেন। পরে প্রমাণ হয়েছে, সেগুলো ভুয়ো।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘উনি (সোহিনী) আগে বিতানের সঙ্গে আমেরিকায় ছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও এ দেশে আছেন। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসে সোহিনীর ভারতীয় পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ দক্ষিণ কলকাতার পাটুলিতে একটি বাড়িতে থাকেন বিতানের বাবা-মা। অন্য একটি বাড়িতে থাকেন তার স্ত্রী-পুত্র। বিতানের পরিবারের দাবি, সোহিনী যেখানে থাকেন সেই বাড়ির ‘অবৈধ মালিক’ তিনি। কারণ, ভুয়ো কাগজপত্র দিয়ে তার মা ওই বাড়িটি কেনেন। পরে সেটি মেয়েকে উপহার দেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দরে সোহিনীরা নামার পরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রী, বিধায়কেরা যেমন গিয়েছিলেন, তেমনই সেখানে উপস্থিত হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং তার কয়েক জন রাজনৈতিক সঙ্গী। শুভেন্দুকে সোহিনী জানান, হিন্দু বলে তার স্বামীকে গুলি করে মেরেছে জঙ্গিরা। এবং তিনি শুভেন্দুর ভরসায় কলকাতায় এসেছেন। পরের দিন, বৃহস্পতিবার সোহিনীর সঙ্গে দেখা করতে তার পাটুলির বাড়িতে যান শুভেন্দু, অগ্নিমিত্রা পালরা। শুভেন্দু জানান, প্রায় আধ ঘণ্টা সোহিনীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে সেগুলো জনসমক্ষে বলা যাবে না এবং তারা সোহিনীর পাশে আছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
