|
সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্ব করবেন না: লাকসামে বিএনপি মহাসচিব
শারমিন সুলতানা, লাকসাম
|
![]() সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্ব করবেন না: লাকসামে বিএনপি মহাসচিব তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা আর কোন ষড়যন্ত্র দেখতে চাইনা। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, কিংবা নৈরাজ্য চাই না। আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশের বিচার বিভাগ, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সকল কিছুকে ধ্বংস করেছে দিয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে যত নির্বাচন হয়েছে কেউ ভোট দিতে পারেনি। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন করা করেছিল। তিনি বলেন, ভারত আমাদের আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। ভারত যদি মনে করে শুধু আওয়ামী লীগ তাদের বন্ধু তাহলে ভুল করবে। এমনটা মনে করলে তারা বাংলাদেশের মানুষকে পাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনা সরকার দেশের মানুষের উপর অনেক অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকার লাকসামবাসীর প্রিয় নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু, হুমায়ুন কবির পারভেজ, সিলেটের ইলিয়াছ আলীসহ বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গুমখুন করেছে। লাকসামের মানুষের উপর বিনা ভোটের এমপি তাজুল ইসলাম অনেক নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনাকে সরাতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের দুটি স্লোগান ছিল একটি হচ্ছে- ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’, অন্যটি ‘বাংলাদেশ যাবে কোন পথে-ফয়সালা হবে রাজপথে’। তারেক রহমানের স্লোগানই সত্যি হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনা সরকার ও তার অবৈধ এমপি-মন্ত্রী তাজুল ইসলামদের পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে রাজপথেই ফয়সালা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হাসিনা সরকার ১৮০ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। ব্যাংকিং সিস্টেম ধ্বংস করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশবাসী হাসিনাকে সরাতে পেরেছি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছি। তাই দেশকে নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত সৃষ্টি করবেন না। ’৭১ কিংবা ’২৪ কে কটাক্ষ করে কথা বলবেন না। দেশের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো। মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দেশবাসীকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘসময় কারাবন্দি রাখা হলেও তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি কখনো ভাগাভাগির নির্বাচন মেনে নেননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন সর্বদা আপোসহীন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ অস্থিরতার মধ্যে আছে। তাই সংষ্কারের কথা বলে নির্বাচন পেছানো ঠিক হবে না। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন। নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা দরকার। আমরা অতীতেও সরকারে ছিলাম। ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে আবার সরকারে আসব। প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক। তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপোসহীন নেত্রী। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিসীম সংগ্রাম করেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে লাকসামের হিরু-হুমায়ুন সহ দেশের অসংখ্য নেতা-কর্মীদের গুম, খুন করা হয়েছে। ৬৫ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের বাবা-মা, ভাই-বোনের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জননেতা তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে আমাদের ৮৬২ জন নেতা-কর্মীকে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের পর বাংলাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই না। হাসিনা পতন আন্দোলনে যারাই অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি সমর্থন দিয়েছে বলেই ড. ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছেন। অতীতে বিএনপি তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছে, সম্মান দিয়েছে। বিশ্ববাসীর নিকট দেশইেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর পক্ষে কথা বলেছেন। তাই প্রধান উপদেষ্টার নিকট আমাদের প্রত্যাশা ১/২ জন নাবালক উপদেষ্টা বক্তব্যে আপনি বিভ্রান্ত হবেন না। আপনি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে বিশ^বাসী আপনাকে সাধুবাদ জানাবে। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির আয়োজনে জনসভায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্ল্যাহ বুলু। বিশেষ বক্তা ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব.) এম. আনোয়ার উল আজিম। জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির (কুমিল্লা রাজনৈতিক বিভাগ) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, নির্বাহী কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, নির্বাহী কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান সরকার, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম কফিল উদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এফ তায়েফ মুন্সি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউছুফ মোল্লা টিপু। এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের জনসভায় লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলার বিভিন্ন সড়কে শতশত তোরণ নির্মাণ করে। এছাড়াও ব্যানার, পেস্টুন, পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে পুরো এলাকা। লাখো জনতার আগমনে বিএনপির মহাসচিবের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভায় শিল্পীরা গানে গানে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
