|
নতুন সময় কার্যালয়ে নুরুল হক নুর
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সিস্টেমের সমস্যা তুলে ধরতে হবে
ব্যবসায়ীরা যেন দেশের টাকা দেশে রাখে
শামীম শেখ
|
![]() অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সিস্টেমের সমস্যা তুলে ধরতে হবে নুরুল হক বলেন, গুটি কয়েক ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের সাথে থেকে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছে। ওই সব ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়নি। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন যেমন ভালোভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং ব্যবসা করতে গিয়ে ঘুষ দুর্নীতির চাঁদাবাজের শিকার না হয়, নির্বিঘ্নে তারা যেন ব্যবসা করতে পারে। ব্যবসায়ীরা যেন দেশের টাকা দেশে রাখে । এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের একটা বার্তা দেয়া দরকার। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সুযোগ আসছে। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছি, পরিবর্তনের কথা বলছি। মানুষকে পরিবর্তন হতে হবে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু সিস্টেম যদি একই থাকে তাহলে সমাজ পরিবর্তন হবে না । সিস্টেম নতুন করে গড়ে তোলার জন্য যারা পুরনো সিস্টেমের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে কারওয়ানবাজার, মহাখালী বাস স্ট্যান্ড, সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে আগে যারা টাকা পয়সা চাঁদাবাজি করতো এখন আরেকদল লোক ঢুকেছে। সিস্টেম কিন্তু আগেরটাই আছে, শুধু মানুষ পরিবর্তন হয়েছে। এতে লাভ কী হলো? অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এগুলো তুলে ধরতে হবে। উত্তরবঙ্গ বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সবজি ঢাকায় আসে। এই সবজির ট্রাক থেকে যারা পদে পদে টাকা নেয় সেটা ট্রাফিক পুলিশ নেয়, রাজনৈতিক নেতারা নেয় এই চাঁদার ভুক্তভোগী কিন্তু একদম সাধারণ মানুষ। কিছু জায়গা আছে যেখানে নৈতিকতার জায়গা থেকে মানুষের কল্যাণে জায়গা থেকে আনকম্প্রোমাইজ থাকতে হবে। এরকম একটা জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে যেখানে জনগণ সরাসরি ভুক্তভোগী হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই ইস্যুগুলো আপনারা একটি জোরালো ভুমিকা রাখেন। বিশেষ করে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি এবং সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ মানুষের যারা রক্ত চোষে মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করেছে এটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা চাই তারা যেন অন্ততপক্ষে আগের মত মাতব্বর না হন। আগে যেমন পুলিশের একটা জোনের ডিসি কিংবা ডিবির ডিসি তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য করতো, বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান না দিয়ে দেখা যায় তারা একটা মাতব্বরপনা করতো। তারা অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠানকে জোর করে আরেকজনের নামে লিখে নেওয়ার ঘটনাও অনেক ঘটিয়েছে বিগত ১৬ বছরে। এধরনের হস্তক্ষেপ করা, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে জোর করে চাকরিচ্যুত করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ না, তাদের কাজ জনগণের সেবা দেয়া। সে ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি বাড়াবাড়ি করে বা বিশেষ করে আগের মতই কর্মকাণ্ড করে সেগুলো আপনারা পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরেন । গোটা দেশ এবং সিস্টেমের একটা বড় পরিবর্তন আসবে। আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা সকলে মিলে মিশে পরিবর্তন করব, কাজ করবো। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের চলার পথে অনেক ভুল সিস্টেম আছে, পদক্ষেপ আছে এবং থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা দেশ ভালো থাকবে আমরা ভালো থাকবো। আগে যে ভুলভ্রান্তি ছিল সেটা পাশে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের মধ্যে যত ভালো বন্ধন থাকবে দেশ তত এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বত্বেও যেন আমরা একসাথে এগিয়ে যাই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
