|
ইসিএস কম্পিউটার সিটিকে সর্বাধুনিক আইটি মার্কেট বানাতে চাই : নজরুল ইসলাম হাজারী
মজিবুর রহমান পান্না
|
![]() ইসিএস কম্পিউটার সিটিকে সর্বাধুনিক আইটি মার্কেট বানাতে চাই : নজরুল ইসলাম হাজারী নতুন সময় : আপনার কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু জানতে চায়? নজরুল ইসলাম হাজারীঃ কম্পিউটার ট্রেনিং ব্যবসা শুরু করার পর ১৯৯৮ সালে আমি প্রথম কম্পিউটার হার্ডওয়্যার যেমন- মাদারবোর্ড, র্যমসহ বেশকিছু প্রযুক্তি পণ্যের ডিস্ট্রিবিউটরশীপ নিয়ে ওয়েলকিন কম্পিউটার্স এর কার্যক্রম শুরু করি। পরবর্তীতে এনার্জি সেভিং লাইট ব্র্যান্ড ‘বাই এনার্জি’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করি। প্রায় ৪২টি নিয়ে ট্রেডিং ব্যবসাও শুরু করি। বর্তমানে নিজেরাও ফ্যাক্টরিতে বেশকিছু পণ্য উৎপাদন করছি। এছাড়াও গার্মেন্টস প্রোডাক্ট বিশেষ করে গার্মেন্টস ফেব্রিক্স নিয়েও কাজ করছি। টেক্সটাইল মিল প্রতিষ্ঠার এগ্রো সেক্টরে আমাদের ব্যবসা রয়েছে। আইটি সেক্টরের পাশাপাশি কৃষিখাতেও ভালো ভূমিকা রাখতে চাই। নতুন সময়ঃ ইসিএস প্রতিষ্ঠার পর এর উদ্দেশ্য অর্জন হলো কতটুকু? নজরুল ইসলাম হাজারীঃ এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার সমিতি (ইসিএস) এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রেজারার ছিলাম আমি। ট্রেজারার থাকাকালীন আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এলিফ্যান্ট রোড মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে ইসিএস কম্পিউটার সিটি প্রতিষ্ঠা একটা বড় অর্জন। আমি ইসিএস কম্পিউটার সিটি বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। এটা সাউথ এশিয়ার একটা লার্জেস্ট মার্কেট হিসেবে ডিক্লারেশন পেতে যাচ্ছে। এটি নীচ থেকে ১৫ তলা পুরোটাই কম্পিউটার মার্কেট হিসেবে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছি। সেই দিক থেকে এটা সাউথ এশিয়ার সবচেয়ে লার্জেস্ট মার্কেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের আগে ইসিএস কম্পিউটার সিটির দায়িত্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদপুষ্ট একটা টীম কাজ করেছে। তারা শোষণটাই বেশি করছে। যেখানে ব্যবসায়দের নিয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করার কথা উচিত ছিল। সেখানে গুটিকয়েক নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত ছিল। সমিতির আয় নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করতো। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারা সার্ভিস চার্জ দিচ্ছে কিন্তু সার্ভিস পাচ্ছিনা। আমরা এসি’র টাকা পে করেছি কিন্তু এসি ঠিকমতো লাগছে না। যার ফলশ্রুতিতেই কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের প্রায় ৭৫০ দোকানের সবাই একটা বিপ্লবের মতো ঘটনা ঘটিয়ে টীম পরিবর্তন করি। ব্যবসায়ীরার দায়িত্ব দিয়েছে যেন ক্রেতাদের চাহিদা, মার্কেটের উন্নয়ন তথা আইটি খাতের ডেভেলপমেন্ট এগিয়ে নিতে পারি সবার মতের প্রতিফলন ঘটাতে পারি। সেই চেষ্টা করছি। সবাই মিলে একটা আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলামকে আহবায়ক এবং আমাকে সদস্য সচিব এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মার্কেটটি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ছিলাম আমি অন্যদের তুলনায় দরদটাও একটু বেশি। বেশি কিছু বড় কাজে হাত দিয়েছি। সংক্ষেপে বলবো ব্যবসায়ীদের মতের প্রতিফলন ঘটিয়ে মার্কেটটিকে সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি নিষ্ঠাবান ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছি। নতুন সময়ঃ নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর কি কি কাজ করলেন। নজরুল ইসলাম হাজারীঃ দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা ‘মিট এন্ড গিল্ড’ অনুষ্ঠানে একটা কর্ম পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। মার্কেটের ভেতরে অনেকগুলো অবৈধ স্থাপনা ছিল, মার্কেটে বেশি মানুষ ঢুকলে মানুষ গরমে ঘেমে যেতো এমন বেশকিছু সমস্যা আইডেন্টিফাই করেছি। প্রায় ২০ থেকে ২২টা অবৈধ স্থাপনা ছিল যেগুলোর বেনিফিসিয়ারী ছিল পূর্ববর্তী কমিটি। সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। আগের কমিটিও লোকজন এয়ার কন্ডিশন সিস্টেম বাস্তবায়নের নামে ৫ কোটি টাকা তুলে পুরো টাকায় আত্মসাৎ করেছে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের রিজার্ভ ফান্ডের টাকা দিয়ে এয়ার কিন্ডিশান সিস্টেম পারচেজ করেছি। আমরা চাই এই মার্কেটটাকে পূর্ণাঙ্গভাবে আগের ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনতে। আমরা একটা কার্গো লিফট, একটা প্যাসেঞ্জার লিফটও স্থাপন করেছি। মার্কেটের সিলিং সিস্টেম চেঞ্জ করে আরো মর্ডানাইজ করেছি। পুরো মার্কেটকে ওয়াই-ফাই সিস্টেমের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। প্রতিটিট ফ্লোরে ফ্রি পিওর ড্রিংকিং ওয়াটারের পাশাপাশি রাস্তার লোকেরাও যেন ফ্রিতে পানি খেতে পারে সেজন্যে মার্কেটের বাহিরেও পানির নল স্থাপনের ব্যবস্থা করছি। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ডাটা সিস্টেম এবং অভিন্ন একাউন্ট সিস্টেম তৈরি করেছি। মার্কেটের বাহিরের অংশের এক্সটেরিয়র আরো আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি বিশালাকার এলইডি ডিসপ্লে স্থাপনের চেষ্টা করছি। যাতে আমাদের এডভার্টাইজমেন্ট ও প্রোমোশনাল কাজগুলো আরো আকর্ষণীয়ভাবে কাজ করা যায়। সবধরণের বিলিং সিস্টেমেও আমরা অটোমেশন পদ্ধতি নিয়ে আসছি। একটা কাস্টমার যখন আমাদের মার্কেটে প্রবেশ করবে তখন সে যেন একটা হাইটেক মার্কেটে প্রবেশের অনুভূতি পায় সে ফ্লেভারটা আমরা দিতে চাই। নতুন সময়ঃ তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের প্রসারে ইসিএস কম্পিউটার সিটির গুরুত্ব বা অবদান সম্পর্কে কিছু বলুন। নজরুল ইসলাম হাজারীঃ এটা সাউথ এশিয়ার সবচেয়ে লার্জেস্ট মার্কেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। আপনারা জানেন যে, এলিফ্যান্ট রোড হচ্ছে বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজনেসের পাইওনিয়ার। দেশে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ব্যবসার শুরু এখান থেকেই। এই এলিফ্যান্টরোডের একটা ঐতিহ্য আছে। ইসিএস কম্পিউটার সিটির বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার বিক্রির দিক থেকে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে অনেক ভূমিকা রেখেছে। এজন্য আমাদের কিছু ফোকাল পয়েন্ট আছে। ১. এখানে যেন কোনো কপি বা ডুপ্লিকেট মাল বিক্রি না হয়। যাতে আমাদের সাধারণ ভোক্তা ও গভ:মেন্ট ইউজার বা ব্যবহারকারীরা প্রতারিত না হয়। এক্ষেত্রে আমরা ভূমিকা রাখতে চাই। ২. এখানে গভঃমেন্টের যে ডিমান্ড আছে এবং যারা যারা গভঃমেন্টকে হার্ডওয়্যার সাপ্লাই দেয় তাদের বড় বড় অফিসগুলো এখানে আছে। আমরা যদি মার্কেটের তরফ থেকে তাদেরকে সেবাটা নিশ্চিৎ করতে পারি তাহলে তারাও গভঃমেন্টকে এবং তাদের কর্পোরেট ক্লায়েন্টদেরকে সাপোর্টটা ঠিকমতো দিতে পারবে। ৩. আমরা সবার জন্য আরো বেশি সেবামুখি পরিবেশ তৈরি করে দিতে চাই, যেন দেশের ভালো ভালো ক্লায়েন্টগুলো এখানেই আসে। মার্কেটে যারাই আসবে তারা যেন একটা কম্পোজিট সাপোর্ট পায়। যেকোন ক্লায়েন্ট, যেকোন বাজেটের কম্পিউটার যেন এখান থেকে কিনতে পারে, আমরা যেন ক্লায়েন্টের জন্য বাজেট ফ্রেন্ডলী একটা মার্কেটে পরিণত করতে পারি। একই সাথে সফটওয়্যার থেকে শুরু করে আইসিটি সেক্টরের সাথে যুক্ত সকল সেবা ও ইকুইপমেন্ট যেন সে এখানেই পায়। ইতিমধ্যে আমরা সাড়া পাচ্ছি। একাউন্টিং সফটওয়্যার সেলের জন্য দুইটা সফটওয়্যার কোম্পানি অলরেডি এখানে অফিস স্থাপন করেছে। মোট কথা এ মার্কেটটিকে অত্যাধুনিক মডেল আইটি মার্কেট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সবমিলিয়ে আমরা একটা বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। নতুন সময়ঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নজরুল ইসলাম হাজারীঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
