ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২১ জুলাই ২০২৪ ৬ শ্রাবণ ১৪৩১
শেরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্করের ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত
মেহেদী হাসান শামীম
প্রকাশ: Wednesday, 3 July, 2024, 8:36 PM

শেরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্করের ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

শেরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্করের ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে প্রয়াত সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার, জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবু বক্করের ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ৩ জুলাই সকাল থেকে পারিবারিক ভাবে নানান কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে এ মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়। কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা ও নির্দেশনা প্রদান করেন সাবেক পৌর মেয়র ও দু'দফায় নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর রুমান।

কর্মসূচির মধ্যে সকালে কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠিত  হয়। পরবর্তীতে পৌর শহরস্থ বয়ড়াপরানপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর শেরপুর জেলার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে ১৯৩৩  সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম মফিজ উদ্দিন শেখ ও মাতার নাম ছামরতে বানু। তিনি পিতা মাতার অত্যন্ত আদরের সন্তান ছিলেন। তিনি পৌর শহরস্থ মীরগঞ্জ মহল্লায় তার নিজ বাড়ীতে বসবাস করতেন। তিনি বিবাহিত জীবনে ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক ছিলেন।

ব্যাক্তি হিসেবে তিনি শেরপুর জেলা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন ছিলেন। এছাড়াও তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার,ব্যবসায়ী সংগঠন শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি শেরপুর ইউনিটের আজীবন সদস্য, জেলা মিলমালিক সমিতির অন্যতম সদস্য, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও নতুন বাসটার্মিনাল পুলিশফাঁড়ী স্থাপনের একমাত্র উদ্যোক্তা ছিলেন। এছাড়াও তিনি  মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরীতে নগদ অর্থ প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তিনি স্বাধীনতার আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, সৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, আন্দামান ফেরত বিপ্লবী রবি নিয়োগীর সাথে আন্দোলন, বাংলার অগ্নিকণ্যা বেগম মতিয়া চৌধুরী'র সাথে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (রেসকোর্স ময়দানে) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে তুরা কায়সায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ট্রেনিং প্রাপ্ত হন। ট্রেনিং গ্রহন শেষে বাংলাদেশে এসে শিশু হুমায়ুন কবীর রুমান বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান ও অন্যান্য সন্তানদের রেখে ১১ নং সেক্টর কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

জামালপুর জেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগমনে তখন তিনি জামালপুর জেলাতেও বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে পেয়েছিলেন। ওই সময় তিনাকে বঙ্গবন্ধু বাক্কার বলে কাছে  ডেকেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও চাচা বলে সম্বোধন করতেন।

তিনি ছোট থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন। ব্যাক্তি জীবনেও তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তার ইটের খোলা ছিল সেখান থেকে শেরপুর ও  ময়মনসিংহ জুড়ে রপ্তানী করা হত। ব্যাক্তি হিসেবে তিনি সহজ সরল সাবলিল ও সুমিষ্টভাষী ছিলেন। তিনি জীবনে কখনও কারোর উপকার ছাড়া অপকার  করেননি। যার ফলে তার কর্মের গুন ও সুনাম জেলায় রয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর ২০০৬ সালের ৩রা জুলাই স্ত্রী সন্তান, আত্বীয় স্বজন গুণগ্রাহীকে রেখে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন। ( ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন)।

তারই যোগ্য উত্তরসূরী বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমান, আজকের এই মৃত্যু বার্ষিকীতে সকলের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে মাগফেরাত ও দোয়া কামনা করেছেন।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status