|
সন্তানকে ফিরে পেতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতেও রাজি ভারতীয় মা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() সন্তানকে ফিরে পেতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতেও রাজি ভারতীয় মা সোমবার (৬ নভেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সন্তানকে ফিরে পান সাদিকা সাঈদ। শিশুসন্তানকে ফেরত চেয়ে ২০২১ সালে রিট করেন সাদিকা সাঈদ। টের পেয়ে সন্তান নিয়ে দেশ ছাড়েন স্বামী শাহিনুর টি আই এম নবী। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে আর দেশমুখী হননি এই বাবা। তবে দেশে ফিরে সেই শিশুসন্তানের বাবা জামিন নিতে গেলে আপিল বিভাগ শিশুসন্তানকে সর্বোচ্চ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। এরপরই ভারতীয় নারীর কাছে সন্তানটিকে ফেরত দেয়া হয়। বিনিময়ে বাবাকে দেয়া হয় জামিন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ না মেনে শিশুটিকে নিয়ে দেশত্যাগ করায় আদালত অবমাননার মামলায় ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর এক আদেশে হাইকোর্ট সানিউকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এরপর শিশুটিসহ গত অক্টোবরে দেশে ফেরেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক সানিউর। ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে গত ২৩ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আত্মসমর্পণের পর হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে আপিল বিভাগে জামিন চান তিনি। আদালতে সানিউরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মিনহাদুজ্জামান ও সাকিব রেজোয়ান কবীর। সাদিকার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ, সঙ্গে ছিলেন কাজী মারুফুল আলম। শুনানিতে আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়েছে। এত দিন বাবার কাছে ছিল। আজ সকালে মায়ের কাছে দেয়া হয়েছে। জামিনে (শিশুটির বাবা) আপত্তি নেই। তবে শিশু মায়ের কাছে থাকবে। আদালত বলেন, শিশুটি তার মায়ের কাছে থাকবে। বাবা সপ্তাহে দুবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুটিকে দেখতে পারবেন এবং সময় কাটাতে পারবেন, তবে নিয়ে যেতে পারবেন না। আদালতের অনুমতি ছাড়া শিশুটিকে দেশের বাইরে নেয়া যাবে না। পারিবারিক আদালতে শিশুটির মায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ দেয়া হয়। ![]() সন্তানকে ফিরে পেতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতেও রাজি ভারতীয় মা প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৪ জুলাই ভারতের হায়দরাবাদে সাদিকার সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ব্যবসায়ী সানিউরের বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে এই দম্পতির ছেলেসন্তান হয়। সন্তান জন্মের পর সানিউরের বিরুদ্ধে সাদিকাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানির পর সন্তানসহ সাদিকাকে আটক রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ২০২১ সালের ৮ আগস্ট রিট করেন। সানিউর ওই বছরের ১১ আগস্ট সাদিকাকে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পাঠান। হাইকোর্টের আদেশের পর সানিউরের খরচে গুলশান ক্লাবে শিশুটিসহ সাদিকার থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সানিউর সপ্তাহে তিন দিন শিশুটির সঙ্গে দেখা করা সুযোগ পেতেন। তবে ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর সানিউর শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরত দেননি। এরপর হাইকোর্ট শিশুটিকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করতে বলেন। এরপরও শিশুটিকে হাজির না করার বিষয়টি জানানোর পর ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর হাইকোর্ট শিশুটিকে নিয়ে সানিউরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। শিশু ও সানিউরকে ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ অনুসারে ২১ নভেম্বর পুলিশ জানায়, শিশুটিকে নিয়ে ১৬ নভেম্বর সকালে তার বাবা দেশত্যাগ করেন।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
