ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১ মে ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
এই দেশে নিজ যোগ্যতায় এমনি এমনি কিছু হয় না!
আমিনুল ইসলাম
প্রকাশ: Saturday, 2 September, 2023, 11:50 AM

এই দেশে নিজ যোগ্যতায় এমনি এমনি কিছু হয় না!

এই দেশে নিজ যোগ্যতায় এমনি এমনি কিছু হয় না!

এবার দেশে গিয়ে আমি এক ঘটকের ইন্টারভিউ নিয়েছি। নিজের লেখালেখির কারণেই ইন্টারভিউ নেওয়া। ভদ্রলোক ঢাকায় বেশ নামকরা ঘটক। আমি তার নাম বলছি না। তো তাকে জিজ্ঞেস করেছি, বর্তমানে কোন ধরনের পাত্র-পাত্রীর চাহিদা সব চাইতে বেশি? বিদেশে থাকা সিটিজেন পাত্র-পাত্রীর চাহিদাই সব চাইতে বেশি। শুনে আমি একটু অবাক হয়েছি। এই উত্তরের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। জিজ্ঞেস করলাম - বলেন কি। সরকারি চাকরি কিংবা বিসিএস ক্যাডারদের চাহিদা কেমন? বেশ ভালো চাহিদা। আগে এক নাম্বারেই ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছ সিটিজেন পাত্র-পাত্রীর চাহিদাই বেশি। ভদ্রলোক এরপর আমাকে আরেকটা তথ্য দিয়েছেন। বলেছেন, সরকারি রিটায়ার্ড কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই নাকি আজকাল তাদের নিজেদের ছেলে-মেয়ের জন্য বিদেশে থাকা সিটিজেন পাত্র-পাত্রী বেশি পছন্দ করছেন। 

আমি জানি শুধু একজন মানুষের ইন্টারভিউ নিয়ে পুরো বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা মোটেই উচিত হবে না। কারণ এই লোক ঢাকা শহরের ঘটক। পুরো দেশের চিত্র এমন নাও হতে পারে। কিন্তু এরপরও বলতেই হচ্ছে, ভদ্রলোক যেহেতু নামকরা ঘটক। তার তো একটা অভিজ্ঞতা আছে। তাছাড়া তিনি আমাকে জানিয়েছেন, তার পরিচিত অন্য অনেকেও নাকি এমনটাই মনে করছেন। যে দেশের মানুষ দিনে-রাতে দেশপ্রেমের কথা বলে বেড়ায়। যে দেশে প্রায় সকল সেক্টরের মানুষজনই নিজেদের ‘আমরাই সেরা’ মনে করে। সেই দেশেরই একটা শ্রেণীর মানুষে বিদেশে থাকা পাত্র-পাত্রী খুঁজে বেড়াচ্ছে। ‘বিদেশে থাকা’ আমাদের দেশে একটা স্ট্যাটাস হয়ে গিয়েছে। এ কেমন সমাজ আমরা গড়ে তুললাম। আমি চাইলে ব্যাপারটা নানান ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি। কিন্তু আমি সেই ব্যাখ্যায় যাব না। যেহেতু আমি নিজে বিদেশে থাকি। আমি বরং আমার নিজের একটা মতামত দিই- আমার তো বিদেশে থাকতে কোনোদিনও ভালো লাগেনি। আমার পরিবারের কেউ বিদেশে থাকেও না। বিদেশকে আমার কখনো আপনও মনে হয় না। 

এরপরও কেন আমরা বিদেশে থাকি? উত্তরটাও খুব সহজ। আমাদের দেশটা আর থাকার উপযুক্ত নেই। কেউ মশার কামড় খেয়ে মরছে। কেউ রাস্তায় বের হয়ে আর ফেরত আসছে না। কেউ আজীবন পড়াশোনা করে সামান্য একটা চাকরি পাচ্ছে না। কেউ আবার ছোট একটা ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ছোট একটা ঋণ পাচ্ছে না। অনেকে আবার ‘বিশেষ বিবেচনায়’ হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়ে যাচ্ছে। একজন অন্ধও বলতে পারবে, এই দেশে নিজ যোগ্যতায় এমনি এমনি কিছু হয় না। আমরা ছোট বেলা থেকেই জেনে এসছি, সঙ্গে আরও কিছু লাগবেই লাগবে। চেনা-জানা, মামা-চাচা-খালু কিংবা অর্থ-ক্ষমতা। এ কেমন সমাজ? আমাদের দেশটা আর আমাদের নেই। অল্পকিছু দৈত্য-দানবের হয়ে গিয়েছে। তাই আমরা অন্য দেশকে (বিদেশে থাকাকে) নিজেদের মনে করে  আলাদা স্ট্যাটাস পাবার চেষ্টা করে বেড়াচ্ছি। ফেসবুক থেকে 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status