ইডেন কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বৈশাখী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 4 October, 2022, 12:29 AM
ইডেন কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বৈশাখী
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের বিরোধের সময় সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী। রোববার সন্ধ্যায় কলেজ প্রশাসনের গঠিত চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির কাছে দুই পৃষ্ঠার লিখিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।
লিখিত ব্যাখ্যায় সামিয়া আক্তার বৈশাখী বলেন, ‘গত ২৪ তারিখ কলেজে উদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে আমার একটি বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। মূলত সেখানে উল্লেখিত বিষয় আমার নিজের বক্তব্য নয়। সন্ধ্যার পর বহু ছাত্রী ঘটনাস্থলে যায় ও হট্টগোল সৃষ্টি করে। সেখানে একাধিক ছাত্রী চিৎকার করে এইসব বিষয়ে কথা বলে- যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়। পরে রাগান্বিত অবস্থায় যখন মিডিয়া আমার কাছে এসব নিয়ে বক্তব্য জানতে চায়, তখন আমি এসব বিষয়ে ছাত্রীরা অভিযোগ করছে বলে উল্লেখ করি। কিন্তু মিডিয়াতে আমার আংশিক বক্তব্য প্রচার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘বক্তব্যে কখনই প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো দোষারোপ করা হয়নি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে উল্লেখ করেও কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আমার আংশিক বক্তব্য প্রচারের ফলে এখানে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। যার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
বৈশাখী আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবাই আমায় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এক্ষেত্রে আমার প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ শিক্ষার্থী বোনদের কোনোভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। মিডিয়াগুলোতে আমার বক্তব্য সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এটি আমার কোনো ব্যক্তিগত বক্তব্য না হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো দায়ভার আমার নয়।’
ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক এর আগে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈধ রুমের মেয়েরা উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করার সময় সভাপতির (তামান্না জেসমিন রিভা) অনুসারীরা তাদের ছবি তুলে রাখেন। সেখান থেকে সুন্দরীদের বাছাই করেন। পরে বাছাইকৃত মেয়েদের রুমে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে খারাপ উদ্দেশে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।’
চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও সিট বাণিজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সদ্য স্থগিত কমিটির শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার অনুসারীদের মারধর, হেনস্তার শিকার হন সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস। মারধর ও হেনস্তাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় ক্যাম্পাস। উত্তপ্ত পরিস্থিতির এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে পাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। পরে কমিটি স্থগিত ঘোষণা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ১২ জন নেত্রীকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন বহিস্কৃতরা। পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বাসে তারা অনশন থেকে সরে আসেন। এ সব ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা দিয়েছে দুই গ্রুপ।