|
শুভ জন্মদিন বাংলা গানের মহারাজা মিল্টন খন্দকার
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() শুভ জন্মদিন বাংলা গানের মহারাজা মিল্টন খন্দকার এছাড়াও বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন ও সুর-সংগীতায়োজন করেছেন আব্দুল হাদী, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, কনকচাঁপা, আসিফ আকবরের মতো প্রায় সকল বিখ্যাত শিল্পীদের জন্যই। তিনি মিল্টন খন্দকার। বাংলা গানের এ মহারাজের জন্মদিন আজ। ১৯৬৭ সালে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় এক প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা খন্দকার আহমেদুল হক ছিলেন পেশায় পুলিশ কর্মকর্তা। আট ভাই এক বোনের মধ্যে মিল্টন খন্দকার ষষ্ঠ। ব্যক্তিগত জীবনে মিল্টন খন্দকারের সহধর্মিনী লুবনা ইয়াসমিন চৌধুরী টেলিভিশনের তালিকাভূক্ত শিল্পী। দুই কন্যা জাইবা নাহিয়ান খন্দকার শ্রেষ্ঠা ও জারা। নিরহংকারী এই গুণী মানুষটি ১৯৮৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪০০০ গান উপহার দিয়ে আমাদের টেলিভিশন, রেডিও, অডিও ও সিনেমাশিল্পর গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। কয়েক শত তুমুল শ্রোতাপ্রিয় গানের জননন্দিত এই গীতিকবি ও সুরস্রষ্টা ২০১৩ সালে ‘খোদার পরে মা’ ছবির গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। জানা গেছে, ছাত্রাবস্থায় অভিনয়ের প্রতি অনুরক্ত হয়ে সম্পৃক্ত হন ‘বোধন কুষ্টিয়া নাট্যসম্প্রদায়’র সাথে। অভিনয় করেন অনেক মঞ্চ নাটকে। তার অভিনীত মঞ্চনাটকের মধ্যে বন্দি ছেলে, ওরা কদম আলী, আলো একটু আলো, হীরক রাজার দেশে, মিছিল ও হারাধনের দশটি ছেলে উল্লেখযোগ্য। নাট্যচর্চা করতে গিয়ে কণ্ঠসাধনার প্রয়োজন হওয়ায় ওস্তাদ খন্দকার মিজানুর রহমান বাবলুর শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তার উৎসাহে গানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে পরে ঢাকায় এসে ভর্তি হন সংগীত মহাবিদ্যালয়ে। ১৯৮৭ সালে তিনি নিজের লেখা ও সুরে হাসান চৌধুরীর কণ্ঠে ‘সেই তুমি’ অ্যালবাম নিয়ে অডিও বাজারে প্রবেশ করেন। ‘বেতার জগত’ থেকে প্রকাশিত সেই প্রথম অ্যালবামই হিট হয়। তারপর ১৯৮৮ সালে দিলরুবা খান এবং ১৯৮৯ সালে ডলি সায়ন্তনীর গাওয়া ‘হে যুবক’ অডিওশিল্পে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করে। সুপার-ডুপার হিট হয় গানটি। ১৯৯৬ সালে অডিও বাজারে আরেক বিস্ময় হিসাবে নিয়ে আসেন মনির খান কে। ‘তোমার কোন দোষ নেই’ নামের মনির খানের গাওয়া সেই অ্যালবাম ও সুপার-ডুপার হিট হয়। তার পরের ইতিহাস কম বেশি সবার জানা। অঞ্জনা শিরোনামে ৩০টির মতো গান লিখে মনির খানকে নিয়ে ১৫টি একক অ্যালবাম করে দেশ মাতিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নতুন গীতিকবিদের সুযোগ করে দিতে ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গীতি কাব্য চর্চা কেন্দ্র’। এ পর্যন্ত সারা দেশের প্রায় দুই হাজার নবীন গীতিকবি হাতে কলমে গান লেখার কলাকৌশল চর্চা করে গেছেন গীতিকাব্য চর্চা কেন্দ্র থেকে। ১৯৯০ সাল থেকে ‘ঘেরাও’ সিনেমা দিয়ে শুরু করেন সিনেমায় গান লেখা। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ সিনেমায় গান লিখেছেন। তার তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া গানগুলোর মধ্যে - খুব কাছাকাছি তুমি আমি আছি, রঙচটা জিন্সের প্যান্ট পরা, আমি পাথরে ফুল ফোটাবো, ও সাথীরে যেও না কখনো দূরে, আমি যে তোমার কে কাছে এসে, তোমরা কাউকে বলো না, আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু, তোমার কোন দোষ নেই, খ্রিষ্টান হইলে কফিনে, চাল নেই চুলো নেই, জানি আর কোন দিনও আমার হবে না, সুখে থাকা হলো না আমার, লাল বেনারসি, আজকে তোমার গায়ে হলুদ, ও প্রিয়জন বড় আয়োজন করে, মা তুমি আমার আগে যেও না গো মরে, আমি যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি, মা, সবুজের বুকে লাল উড়বেই চিরকাল, চাঁদেরও ঈর্ষা হবে তোমায় দেখে, চিন্তার চেয়ে চিতার আগুন ভালো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তিনি গান লেখা ও সুরসৃষ্টির পাশাপাশি সংগীত পরিচালনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
