শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে গত তিন বছরে সন্দেহজনক আনাগোনার জন্য অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এ পর্যন্ত ১৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের সবাই এখন কারাবন্দি। এই ১৩ জনের মধ্যে চার জনের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাকিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে গত তিন বছরে এই দেশি-বিদেশি সন্দেহভাজনদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জাজিরা পুলিশ জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর আগে, এভাবে তথাকথিত ভারসাম্যহীনদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আর একের পর এক এমন বিদেশি নাগরিক আটক হওয়ায় সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক সন্দেহভাজন আটক হলেও এ পর্যন্ত ১৩ জন বিদেশিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এদের বেশভূষায় পাগল মনে হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেশির ভাগকেই পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের বেশির ভাগই নিজের পরিচয় জানিয়েছেন। তবে এই ১৩ জনের মধ্যে চার জনের কাছ থেকে কোনোভাবেই কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। এ কারণে এই চার জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই আদালতে পাঠানো হয়।
শরীয়তপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ বিদেশিকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার জনকে প্রাথমিকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হওয়ায় তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিত্সা শেষে তাদের কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ। তারা এখন ভালো আছেন।