|
ধরাছোঁয়ার বাইরে নরসিংদীতে তরুণীকে হেনস্তাকারী শিলা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ধরাছোঁয়ার বাইরে নরসিংদীতে তরুণীকে হেনস্তাকারী শিলা রেলওয়ে পুলিশের ভাষ্য, ওই নারীকে শনাক্ত ও চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বারবার স্থান ও ফোন নম্বর পরিবর্তন করছেন। দ্রুতই তিনি আইনের আওতায় আসবেন। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, তরুণীকে হেনস্তা করা ওই নারীর নাম শিলা আক্তার ওরফে সায়মা (৪৫)। তিনি শহরের উপজেলা মোড়ের ভাড়াটিয়া ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ফয়েজ আহমেদকে বিয়ে করেন। স্থানীয়ভাবে ওই নারী একজন ঘটক হিসেবে পরিচিত। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ ও দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। এর আগে, নরসিংদী রেল স্টেশনে স্টেশনে ‘অশ্লীল পোশাক’ পরার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পর্যটক সঙ্গীদের ওপর আধা ঘণ্টার তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনার মূল হোতা শিলা আক্তার ওরফে সায়মা ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। ওই নারী ঘটনার দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নরসিংদী রেল স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম ওই তরুণীকে জেরা করা শুরু করেন এরপর চেঁচামেঁচি করে লোকজন জড়ো করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ওই ‘পর্যটক’ তরুণী ঢাকা থেকে আগের দিনে নরসিংদী বেড়াতে যান। ওই তরুণীর সঙ্গে তার এক ফ্যাশন ডিজাইনার পর্যটক বন্ধুও ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সংক্ষিপ্ত সফরে নরসিংদীর পর্যটন স্থানগুলো ঘুরে দেখা। এ উপলক্ষে তারা নরসিংদীর স্থানীয় এক বন্ধুর সহযোগিতাও নেন। নরসিংদী ভ্রমণ শেষে দিনের দিন তারা ঢাকায় ফিরতে না পারায় পরদিন ভোরের ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন না। ঢাকায় ফিরতে না পারায় তারা নরসিংদীর স্থানীয় ওই বন্ধুর বাসায় ছিলেন। পররদিন ভোরের ট্রেনে নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসার জন্য তারা রেল স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তরুণীর ফ্যাশন ডিজাইনার বন্ধু তাকে স্টেশনে রেখে ওয়াশরুমে যান। ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে তিনি দেখেন, শিলা আক্তার ওরফে সায়মা তার বন্ধুকে ‘অশ্লীল পোশাকের’ প্রসঙ্গ তুলে গালিগালাজ করছেন। এ সময় তাকেও গালমন্দ করা হয়। ওই সময়ের ঘটনা বর্ণনা করে ভুক্তভোগীদের একজন নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘শিলা আক্তার ওরফে সায়মা এসেই আমার বন্ধুকে বলেন, ‘তুই এই পোশাক পরেছিস কেন? তোর বাবা-মা কোনো শিক্ষা দেয়নি? তোর চরিত্র খারাপ, তুই জাহান্নামে যাবি, তুই জাহান্নামি।’ এ সময় হাত বাড়িয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর পোশাক খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন শিলা। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে আরেক নারী আসেন। ওই নারীও তেড়ে যান ওই তরুণীর দিকে। ওই ভিকটিম জানান, ঘটনার সময় দুই নারী ছিল। এর কিছুক্ষণ পর যোগ দেয় আরও দুইজন পুরুষ। তারাও গালিগালাজ শুরু করে, পাশাপাশি আমাদের গায়েও হাত দেয়। এ সময় চিমটি-খামচি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।’ ঘটনার পরপরই নরসিংদীর স্থানীয় বন্ধুটিকে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ওই বন্ধু ঘটনাস্থলে এলে তিনিও তোপের মুখে পড়েন। পরে ভুক্তভোগীরা সাহায্যের জন্য ৯৯৯ এ কল দেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অপর ভুক্তভোগী বলেন, ‘শিলা আক্তার ওরফে সায়মা খুব আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি আমাদের কোনো কথাই শুনছিলেন না। একপর্যায়ে আমাদের মারার জন্য স্টেশন থেকে লোহার পাইপ নিয়ে তেড়ে আসেন।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়,তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
