ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান তুষ্টির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হওয়া অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ। এদিকে পুলিশি প্রতিবেদনের বিষয়ে শিক্ষার্থীর পরিবার বলছে মনগড়া। এ প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নয় পরিবার। এটাকে তারা পুনরায় যাচাই বাছাইয়ের আবেদন করবে। গত বছরের ৫ই জুন ভোরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুরান ঢাকার আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারের একটি সাবলেট বাসার বাথরুম থেকে শিক্ষার্থী তুষ্টির মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাবি শিক্ষার্থীর অ্যাজমাজনিত সমস্যার পাশাপাশি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। ঘটনার দিন বাথরুমে যাওয়ার পর পা পিছলে বাথরুমে পড়ে যায়। এতে সে মাথার পেছনের অংশে গুরুতর আঘাত পায়। পরবর্তীতে তার মিনি স্ট্রোক হয়
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পাশাপাশি কলের পানিতে তার শরীর দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকায় তার শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী তুষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বন্ধু, রুমমেট, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী একাধিক সদস্য এবং বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুষ্টি আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং অ্যাজমার সমস্যা ছিল। এ ঘটনায় ব্যবহৃত ইনহেলার তার ব্যাগ থেকে জব্দ করা হয়। ঘটনার দিন তুষ্টি বৃষ্টিতে ভিজছিলেন। মাঝরাতে বাথরুমে গেলে এ সময় তিনি পা পিছলে পড়ে যান। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী একাধিক সদস্যের বর্ণনায় বলা হয়, তুষ্টির মাথা বাথরুমের পেছনের দেয়ালের সঙ্গে লেগে ছিল। এবং শরীরের পোশাক ঠিক ছিল না।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুষ্টির মাথায় ‘ইন্টারনাল হ্যামার’ হওয়ার কারণে তার মিনি স্ট্রোক হয়। এবং এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম থেকেই এটাকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে ধরে নিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে এটাকে সন্দেহজনক মৃত্যু বলে মনে হয়নি। শিক্ষার্থী তুষ্টির চাচা ইমাম হোসেন মেহেদী বলেন, পুলিশ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করছি না। এটাকে মনগড়া এবং একপেশে প্রতিবেদন বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আরও যাচাই বাছাই করবো।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, ঢাবি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা এবং মেঝেতে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক জ্যোতির্ময় বলেন, গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এটা রহস্যজনক মৃত্যু ছিল না। এ ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং একাধিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাথরুমে অসাবধানতাবসত পা পিছলে পড়ে গিয়ে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। এবং ‘মিনি স্ট্রোক বা ইন্টারনাল হ্যামার’ থেকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। হল বন্ধ থাকায় তুষ্টি আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন। তার বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়। বাবার নাম আলতাফ উদ্দিন।