টিপু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 2 April, 2022, 2:13 PM সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 2 April, 2022, 2:18 PM
টিপু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক।
শনিবার (২ এপ্রিল) সকালে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির মুখপাত্র খন্দকার আল-মঈন এসব কথা জানান। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওমর ফারুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিনজন হলেন- নাসির হোসেন ওরফে কিলার নাসির, সালেহ সিকদার ও পলাশ। এর আগে ওই হত্যা মামলায় মাসুম আকাশ ও আরফান উল্লাহ দামাল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর কমলাপুর থেকে অস্ত্রসহ দামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে ২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে আকাশকে এ মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার করে ডিবি।
২৮ মার্চ তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বর্তমানে আকাশ রিমান্ডে রয়েছে। পুলিশ বলছে, আকাশই সেদিন গুলি চালিয়েছিল।
র্যাব মুখপাত্র জানান, মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় নজরদারির কাজে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল এবং হত্যার জন্য দেয়া তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
খন্দকার আল-মঈন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিপু ও হত্যার পরিকল্পকদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান ছিল।
যে ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই ১০ নম্বর ওয়ার্ডে টিপুর হোটেল রয়েছে, যেখানে তিনি নিয়মিত বসতেন। সেখান থেকেই বাসায় ফেরার পথে টিপুকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার চারজন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে।
হত্যাকাণ্ড দেশে হলেও তার নিয়ন্ত্রণ দুবাইয়ে হয়েছে দাবি করে র্যাব মুখপাত্র বলেন, দেশ থেকে কিলার নাছির, কাইল্লা পলাশসহ আরও কয়েকজন টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েক দিন ধরে মুসার কাছে তথ্য প্রেরণ করত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর কিলার নাছির আনুমানিক চারবার টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে অবহিত করে।
টিপু হত্যার পরপরই শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, মুসা প্রকাশ-বিকাশের সহযোগী হিসাবে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসছে। বর্তমানে মুসা দুবাইতে পালিয়ে থাকলেও, সেখান থেকেই খুনসহ অপরাধ জগতের নানা কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে।
২০১৩ সালে রাজধানীর গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার চারজনই মিল্কীর সহযোগী ছিলেন। মিল্কী হত্যার সঙ্গে টিপু জড়িত ছিলেন বলে তারা সন্দেহ করতেন। মিল্কী হত্যার মামলার টিপুর নামও দেন তারা। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে টিপুর নাম বাদ পড়ায় গ্রেপ্তারদের মনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। টিপু হত্যা পরিকল্পনায় এই বিষয়টিও কাজ করেছে। মিল্কী হত্যার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলো তারা।
উল্লেখ্য, ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার শাহজাহানপুরের আমতলী এলাকার রাস্তায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু। তার মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি ছুঁড়ে হেলমেটধারী আততায়ী। ওই সময় গাড়ির কাছেই রিকশায় থাকা বদরুন্নেছা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতিও গুলিতে নিহত হন। আহত হন টিপুর গাড়ি চালক মুন্না।
মাত্র মিনিটখানেকের মধ্যে কাজ সেরে হামলাকারী সড়ক বিভাজক টপকে গুলি করতে করতে রাস্তার অন্য পাশে অপেক্ষায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় টিপুর স্ত্রী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।