টালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। বরাবরই সোজা কথা বলতে ভালোবাসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব তিনি, সেখানেই নানান বিষয়ে খোলামেলা উপস্থাপন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৩ সালের ২০ নভেম্বর শিলাদিত্য স্যান্নালকে বিয়ে করেছিলেন শ্রীলেখা। ১০ বছর সংসার করে ২০১৩ সালে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তারা। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে ঐশী স্যান্নাল। মেয়ে এখন মায়ের কাছেই থাকে। তবে বাবার সঙ্গেও যোগাযোগ নিয়মিত। সন্তানের কথা ভেবে শ্রীলেখা ও শিলাদিত্যও তাদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
গত বুধবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঐশীর একটি ছবি পোস্ট করেন শ্রীলেখা। ছবিটি মেয়ের বন্ধুর জন্মদিনে তোলা। সেখানে মায়ের পোশাক, জুতো, গয়নায় সেজেছেন মেয়ে। ঐশীর ছবিটি পোস্ট করে তাকে নিয়ে নিজের গর্বের কথা লিখেছেন শ্রীলেখা। আক্ষেপের সুরে তার আর্জি, ‘ক্ষমা করে দিস মা, তোকে আমি সুস্থ ছেলেবেলা দিতে পারিনি।’
শ্রীলেখার ভাষ্য, আমায় কোনোদিন মেয়েকে নিয়ে কিছু লিখতে দেখেছেন? ছবিও দিতে দেখেননি। কারণ আমার মেয়ে এসব পছন্দ করে না। তবে বিশ্বাস করুন, মঙ্গলবার ওর ছবি দেখার পর শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারিনি। ঐশীর অনুমতি ছাড়াই ছবিটি শেয়ার করলাম।
তিনি আরও বলেন, আমার এবং শিলাদিত্যের যখন বিচ্ছেদ হয় তখন ঐশীর বয়স সবে ৮। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মা-বাবাকে আলাদা বাসায় থাকতে দেখেছে। আলাদা হওয়ার শুরুতে বলেছিলাম, ‘মা, তোমার যখন যার কাছে থাকতে ইচ্ছে করবে, থেকো। মা-বাবার দরজা তোমার জন্য সব সময় খোলা।’ সপ্তাহের মাঝে হয়তো ব্যাগ গুছিয়ে বাবার কাছে থাকতে গিয়েছে। নিজেই নিজের ভারী ব্যাগ টেনে নিয়ে যেত। সেদিনও ওর কোনো অভিযোগ ছিল না। চুপচাপ সব মেনে নিয়েছে। সত্যিই তো, আমরা ওকে সুস্থ ছেলেবেলা দিতে পারিনি!
শ্রীলেখার পরিবারে তারই প্রথম বিচ্ছেদ হয়। যে কারণে ‘সিঙ্গেল মাদার’ হওয়ার জার্নিটা খুব সহজ ছিলো না। সব সময় মেয়ের চাহিদাও পূরণ করতে পারেননি। তবে সেসব নিয়েও নালিশ নেই ঐশীর। তবে কোথাও যাওয়ার সময় মায়ের সঙ্গে তার ছেলেমানুষী শুরু হয়। নিজের অঢেল পোশাক, জুতো, গয়না থাকলেও তার মায়েরটাই চাই! মায়ের কাছে মেয়ের বায়না, ‘কিচ্ছু নেই আমার, তোমার যা আছে দাও। পরে যাবো।’ অথচ এই মেয়েই বাকি সময় কত পরিণতমনস্ক! সে তার সিঙ্গেল মাদারকে সামলেছে, প্রয়োজনে পরামর্শ দিয়েছে।
শ্রীলেখা জানান, ‘ঐশী নিজেকে সামলে আমার পাশেও দাঁড়িয়েছে। সে দামি কিছু কিনতে রাজি নয়। কুকুরদের জন্য সে নিজেও নিরামিষ খায়। ওর থেকেই পথশিশুদের ভালোবাসতে শিখেছি। সে একটু চাপা স্বভাবের। অনেকটা ভেবেচিন্তে কাজ করে।