থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শারমিন আক্তার দুই মাস ১০ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শারমিন বাসায় ফিরেছেন বেশ কিছুদিন আগে। শারমিন এখন অনেকটাই সুস্থ। স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা, খাবার গ্রহণ করতে পারছেন। দুঃসময়ে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেকেই শারমিনের পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ডাক্তার, নার্সসহ গণমাধ্যমের অবদানের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। গনমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন শারমিন।
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে শারমিন বলেন, আমি বেঁচে আছি এজন্য প্রথমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় আমি এখন অনেকটাই সুস্থ। অসুস্থ হওয়ার পর আমি মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছি। মৃত্যুশয্যায় একজন মানুষ যেভাবে থাকে, আমার অবস্থা ঠিক সেরকম ছিল। আমি শুধু আল্লাহকে ডাকতাম। কেউ ধারণা করতে পারেননি যে, আমি বেঁচে ফিরব। ভাবতাম আমি হয়তো কিছুদিনের অতিথি হিসাবে বেঁচে আছি। আমার মা-বাবা সবসময় কান্না করতেন। আসলে জীবনটা অনেক ছোট। ভালোভাবে সাজাতে পারলে ছোট্ট এই জীবন অনেক সুন্দর করা সম্ভব। আল্লাহ আমাকে পুনর্জনম দান করেছেন। আমি সবার ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সুস্থ ও পরিপূর্ণভাবে জীবন পরিচালনা করতে চাই। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শারমিন বলেন, আমার দুঃসময়ে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য প্রবাসী ভাই-বোন খোঁজখবর নিয়েছেন। অনেকে ভিডিও কলে আমাকে দেখে কান্না করেছেন। যে যেভাবে পেরেছেন দোয়া, সহযোগিতা করেছেন। তাদের পরিমাণ এত বেশি যে, নাম বলে শেষ করতে পারব না। সবার প্রতি আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। যারা পাশে থাকতে পারেননি তাদের জন্যও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এ নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। এতটুকু বয়সে আমি মানুষের যে পরিমাণ দোয়া ও ভালোবাসা পেয়েছি তা সত্যিই অকল্পনীয়। বিশেষভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনারা পাশে ছিলেন বলেই বিশ্ববাসী আমার অসুস্থতার খবর জানতে পেরেছেন। আমার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা করতে পেরেছেন। আমাকে সুস্থ করে তোলার পেছনে শ্রদ্ধেয় ডাক্তার ও নার্সদের অনেক বড় অবদান রয়েছে। তারা আমাকে যে ভালোবাসা, মমতা দিয়ে সেবা করেছেন তা কখনই ভোলার নয়। সবার উদ্দেশ্যে এটুকুই বলব, আপনারা ভবিষ্যতেও আমার পাশে থাকবেন, দোয়া করবেন। আমি আপনাদের সাধারণ শারমিন হিসেবেই বেঁচে থাকতে চাই। ভালো কিছু করার চেষ্টা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।
তিনি বলেন, গানে আসার আগে আমার বাবা বলেছিলেন, জীবনে যদি সৎপথে রোজগার করতে না পারো সে কাজ না করাই ভালো। আমিও যদি জীবনে সঠিক পথে কাজ করতে না পারি তাহলে কাজ ছেড়ে দিব। তবে কখনো গান ছাড়ব না। তখন শুধু নিজের জন্যই গান করব। কারণ গান মনের খোরাক। আমার গান যারা শোনেন তারা অবশ্যই আমাকে ভালোবাসেন। যারা আমাকে ভালোবাসেন তাদের জন্য আমি গান করে যাব।
তার বর্তমান চিকিৎসা সম্পর্কে শারমিন বলেন, আমি এখনো ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে আছি। আমার চিকিৎসাটা দীর্ঘমেয়াদি। বাসায় আমি বেড রেস্টেই আছি। আমাকে নিয়মিত খাবার গ্রহণ করতে হবে। সবধরনের খাবারই খেতে পারব। তবে পরীমিতভাবে। আমার সুস্থ হওয়ার পেছনে ডাক্তার এবং নার্সদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা ওই সময় অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবা দিয়ে আমাকে ভালো করে তুলেছেন। তাদের অবদান আজীবন মনে থাকবে।
শারমিনের দাদা গান গাইতেন। বাবা হুমায়ুন কবির সরকার একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও গীতিকার। বাবা-দাদার পথ ধরেই তার গানের ভুবনে প্রবেশ। শারমিন ২০১৬ সালে ‘আড়ং ডেইরি-চ্যানেল আই বাংলার গান'র চ্যাম্পিয়ন। গত ২ নভেম্বর হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ৬ নভেম্বর বাসা থেকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।