টাকা ছাড়া মিলছে না প্রশংসাপত্র, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র সংগ্রহের জন্য গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বহু অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ ২০২১ সালের শিক্ষার্থীদের এখন উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হতে হবে একাদশ শ্রেণীতে। আর তার জন্যে প্রয়োজন সাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্র। আর সেই প্রশংসাপত্র মিলছে টাকার বিনিময়ে, টাকা ছাড়া প্রশংসাপত্র নিতে এসে ফিরে যেতে হয় খালি হাতে। প্রশংসাপত্র নিয়ে অর্থ বানিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। প্রতি প্রশংসাপত্র বাবদ কমপক্ষে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে তাদেরকে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, আমার পক্ষে ৫০০ টাকা জোগাড় করা এই মুহূর্তে সম্ভব না। কিন্তু আমার ভর্তি হবার জন্য প্রশংসাপত্র জরুরী। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। তার মধ্যে এই মুহুর্তে ৫০০ টাকা ঘুষ দেয়া আমার মতো আরো অনেকের পক্ষেই সম্ভব না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন নেছার বলেন, ‘এটা তো সবসময় হয়ে আসছে। তবে সবাই তো দেয় না। গরীবদের ছাড় দেয়া হয়।’ প্রধান শিক্ষকের কথার মধ্যেই টাকার বিনিময়ে প্রশংসাপত্র বিক্রির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়। কোন অপরাধবোধ কাজ করেনি তার মধ্যে। মনে হয় প্রশংসাপত্রের বিনিময়ে টাকা নেয়াটা তাদের অধিকার।
রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রশংসাপত্র নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘তিন-চার দিন ধরে প্রশংসাপত্রের জন্য স্কুলের বারান্দায় ঘুরতেছি। কিন্তু টাকার জন্য আমাদেরকে প্রশংসাপত্র দেয়া হচ্ছেনা। যারা টাকা দিছে তাদেরকে প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে টাকা ছাড়া স্কুলের ধারে কাছে না আসতে। তারা বলেছেন বিনা টাকায় প্রশংসাপত্র দেওয়া হবে না। এদিকে আমাদের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু প্রশংসাপত্র না হলে কেমন হবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
জিহাদ নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘তিন-চার দিন টাকা ছাড়া স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশংসাপত্র দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না পেয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে প্রশংসাপত্র নেয়া হয়েছে। আমার অনেক বন্ধুরা আছে, যারা টাকা দিতে না পারায় এখনও প্রশংসাপত্র পায়নি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার অনাদী কুমার বাহাদুর জানান, ‘প্রশংসাপত্রের জন্য টাকা নেয়ার বিধান নেই। তবে অনেকেই খুশি হয়ে দিয়ে যায়, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু কাউকে আটকিয়ে টাকা রাখাটা অন্যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, ‘প্রশংসাপত্রের জন্য আলাদাভাবে অর্থ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’