ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
৮ বছরের বাহারুলের কাঁধে সংসারের জোয়াল
নতুন সময় (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 21 January, 2022, 10:22 AM

৮ বছরের বাহারুলের কাঁধে সংসারের জোয়াল

৮ বছরের বাহারুলের কাঁধে সংসারের জোয়াল

অভাবের সংসার। করোনার মধ্যে অসুস্থ বাবার উপার্জনও ছিল বন্ধ। গত বছর চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। চিকিৎসার ব্যয় সংকুলান করতে চড়া সুদে নেওয়া ঋণ এখন ঘাড়ে চেপে বসেছে। তিন ভাইবোনের লেখাপড়া এখন শিকেয়। বাহারুল মোকতারের বয়স মাত্র আট বছর। পেটের দায়ে এখন পানের দোকান দিয়েছে সে। বড় ভাইয়ের বয়স ১২ বছর। সেও এক দোকানে কাজ নিয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতাছিন মোকতারের ছেলে বাহারুল মোকতার। মোতাসিন আসলামপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মাছ বিক্রি করতেন। দীর্ঘদিন যকৃতের জটিলতা ভুগে বিনা চিকিৎসায় গত বছর মারা যান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাহারুলের বাবা মোতাসিন মৃত্যুর আগে চিকিৎসার জন্য একাধিক মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। বাবার মৃত্যুর পরে  ঋণের ওই টাকা পরিশোধের চাপ, অন্যদিকে পেটের দায় এখন বাহারুলদের পথে নামিয়েছে।

বাহারুলরা দুই ভাই ও এক বোন। বড় বোন স্থানীয় বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। অভাবের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধের পথে। বাহারুল সংসারের ছোট ছেলে। বড়ভাই শাহারুল (১২) বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করে। বাহারুল স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে পড়াশোনা বন্ধ।

বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় বাজারের অলিগলিতে খিলি পান বিক্রি করে বাহারুল। বন্ধুরা যখন খেলা করে বাহারুল তখন দোকানির কাছ থেকে পাইকারি পান কিনে বাজারে খিলি বিক্রি করে।

বাহারুলের মা নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ হলে টাকার জন্য ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। স্বামীর মৃত্যুর আগে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিই। এখন সংসারে অভাব অনটন চলছে। আমাদের সহযোগিতা করার মতো কাউকেই পাশে পাইনি। যদি কোনো সহায়তা পাই তাহলে সন্তানদের পড়ালেখা করাতে চাই।’

বিনা চিকিৎসায় বাবা মারা গেছে। শিশু বাহারুলের মনে সেই করুণ দৃশ্য গভীরভাবে রেখাপাত করেছে। তাই সে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে চায়। গরিব মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রবল ইচ্ছা তার।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা ওই শিশুটিকে শিক্ষা উপবৃত্তির ভাতার আওতায় আনার জন্য কাজ করব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল নোমান রাহুল বলেছেন, ‘শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তির পাশাপাশি শিক্ষা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status