|
একটি টয়লেট নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা!
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() একটি টয়লেট নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা! পরিকল্পনা কমিশন বলছে, সঠিকভাবে সমীক্ষা না করেই প্রকল্পের খরচ প্রাক্কলন করা হয়। আবার সমীক্ষা থেকে যে ব্যয় প্রাক্কলন সুপারিশ করা হয় তার চেয়ে বেশি খরচ ধরে প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সমীক্ষা না করেই নিজেদের মতো করে প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে। এতেই অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাব হচ্ছে। টয়লেট নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মতিউর রহমান বলেন, প্রকল্পটি আমার স্মরণে নেই। তবে ব্যয়টা নির্ভর করছে তারা সেখানে কী কী উপাদান রাখছে। তাই না দেখে কিছু বলা ঠিক হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রন্ত হয়ে থাকে। যার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্যোগকালে বা দুর্যোগের পর দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানীয়জলের অভাব পরিলক্ষিত হয়। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের জন্য দেশের ৩৪ জেলায় ১৫০টি পাবলিক টয়লেট ও ১৮৫টি মোবাইল টয়লেট নির্মাণ করা হবে। এই ৩৪ জেলার মধ্যে বন্যাপ্রবণ এলাকা হলো ২৩ জেলা এবং ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলীয় জেলা হলো ১২টি। এ ছাড়া পানি বিশোধন প্লান্ট, বিভিন্ন ধরনের নলকূপ, পানির উৎসগুলো নিরাপদ রাখা, দ্রুত পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখা ইত্যাদির জন্য ১৮৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২ বছর ২ মাস। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প ব্যয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বা সাইক্লোন শেল্টার জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ১৫০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। এখানে প্রতিটি টয়লেটে খরচ হবে ৩০ লাখ টাকা। যেখানে গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পে এ টাইপ টয়লেটে ধরা হয় ১৭ লাখ টাকা এবং বি টাইপ টয়লেটে ধরা হয় ৮ লাখ টাকা। আর ঢাকা সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট নির্মাণ খরচ সর্বোচ্চ ১৮ লাখ টাকায় হয়েছে। প্রকল্পে মোবাইল টয়লেট বানাতে খরচ হবে ১৮৫টির জন্য ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখানে প্রতিটি মোবাইল টয়লেটের জন্য ব্যয় পড়বে ৩৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রম হলো- ১৫টি মোবাইল টাইপ স্যালাইন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ২০টি মোবাইল টাইপ নন-স্যালাইন/ ফ্রেশ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ১৮৫টি মোবাইল টয়লেট ক্রয়, ৮৫ হাজার জেরিকেন ক্রয়, উঁচু প্লাটফর্মযুক্ত ১ হাজার ৭০০টি অগভীর নলকূপ এবং ২ হাজার ৭৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, উঁচু প্লাটফর্মযুক্ত ১ হাজার ৯৫০টি ৩ ইঞ্চি ও ৬১ মিটার সাবমার্সিবল অগভীর নলকূপ এবং ২ হাজার ৪১৫টি ৪ ইঞ্চি গুণিতক ১ দশমিক ৫ ইঞ্চি সাবমার্সিবল গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, সাইক্লোন শেল্টার ও দুর্যোগকালে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ১৫০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ। পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে নির্মিত বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র বা সাইক্লোন শেল্টার এ পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা সঙ্কুলান রাখা হয়েছে। তারপরও এই প্রকল্পে এত টাকা খরচে পাবলিক টয়লেট কেন। বাস্তবতার নিরীখে করা দরকার। ১৩৭ কোটি টাকা খরচে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিআরডির মাধ্যমে স্যালাইন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (২ টন ট্রাক) প্রকল্পটি চলমান আছে, যা আগামী ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে। ওই প্রকল্পের আওতায় ৩০টি ট্রাক মাউন্টটেড প্লান্ট এবং ২১টি ফিক্সড টাইপ স্যালাইন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে যন্ত্রপাতি স্থাপন ও রান করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রস্তাবনা দ্বৈধতা দেখা দিয়েছে। এসব পরিহার করা দরকার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
