|
খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিতর্ক
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিতর্ক খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ফখরুল। গতকাল জাতীয় সংসদে একটি বিল পাসের সময় আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আবার জেলে গিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে। এখন যে অবস্থায় আছেন তাতে আবেদন নতুন করে বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। এই আবেদনটি ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। নিষ্পত্তিকৃত দরখাস্তের ওপর আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা হলে কারাজীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। দেশে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সাড়া দিয়ে গত বছরের ২৫শে মার্চ এক নির্বাহী আদেশে দেশে থাকার শর্তে খালেদাকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এর আগে ‘বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ‘আইনগতভাবে’ তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি করেন। দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা মতে, এই সুযোগ দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আনিসুল হক বলেন, আমি কখনো বলিনি, ৪০১ ধারা মতে খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু উনি বর্তমানে সাজা স্থগিতপূর্বক বাসায় আছেন, সেটা ৪০১ ধারার ভিত্তিতেই। খালেদা জিয়ার পক্ষে যে আবেদন হয়েছিল, সেখানে কোনো ধারার উল্লেখ ছিল না। সরকার খুঁজে এই ধারাটি বের করেছে। আবেদনটি ৪০১ ধারার আলোকেই নিষ্পত্তি হয়েছে। আর একটি আবেদন যে ধারার অধীনে নিষ্পত্তি হয়েছে, একই ধারায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। রুমিন ফারহানাকে আইনমন্ত্রীর টিপ্পনি: জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় পড়েন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেটওয়ার্কের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি দেখতে বাইরে যেতে হয়েছিল। এ বিষয়ে স্পিকার ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘টিপ্পনি কেটে’ বলেন, ‘ওয়াই-ফাইয়ের কোড (পাসওয়ার্ড) জয় বাংলা; তাই বোধহয় উনি ব্যবহার করবেন না।’ এতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে। গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ পাসের প্রক্রিয়ায় বক্তৃতাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অনুমতি দেয়ার দাবি জানান। এরপর দু’জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন। তারপর বক্তব্যের জবাব দিতে ওঠেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ সময় সংসদ কক্ষে ছিলেন না রুমিন। রুমিনের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনি চলে গেছেন। আমার বক্তব্য ওনার শোনার দরকার নেই। ওনার বক্তব্য আমার কানে ঢুকিয়ে উনি চলে গেছেন।’ এরপর বিলটির সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করতে গিয়ে রুমিন আইনমন্ত্রীর কথার জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘থ্রি-জি, ফোর-জি, ফাইভ-জির কথা শুনি। কিন্তু সংসদে নেটওয়ার্ক থাকে না মাননীয় স্পিকার।’ রুমিন জানান, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি মুঠোফোনে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংসদ কক্ষে নেটওয়ার্ক না থাকায় তা দেখা যাচ্ছিল না। এ কারণে তিনি বাইরে গিয়েছিলেন। পরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রুমিনকে সংসদের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। স্পিকার বলেন, ‘ওয়াই-ফাই কানেক্ট করার চেষ্টা করুন। এখানে ওয়াই-ফাই থাকার কথা।’ পরে আইনমন্ত্রী বক্তব্য দিতে ওঠেন। তিনি রুমিনের উদ্দেশে অনেকটা হাস্যরস করে বলেন, ‘ওয়াই-ফাইয়ের কোড জয় বাংলা। এজন্য উনি (রুমিন) বোধহয় তা ব্যবহার করবেন না।’ আইনমন্ত্রীর এই টিপ্পনিতে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। পরে আইনমন্ত্রী নিজের মুঠোফোনে ফৌজদারি কার্যবিধি বের করে তা পড়ে শোনান। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
