চাহিদামতো বকশিশ না পেয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মচারী কিশোরের (১৫) মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিলে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। মৃত কিশোর বিকাশ চন্দ্র কর্মকারের বাবা বিশু কর্মকার বলছিলেন, ছেলেকে বাঁচাতে তিনি ওই কর্মচারীর পায়ে ধরেছেন। তারপরও ৫০ টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মচারী তাঁর ছেলের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়ে পা দিয়ে ছুড়ে ফেলেন।
অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খণ্ডকালীন কর্মচারী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। ঘটনা খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে না বলে বাবা বিশু কর্মকার বলছিলেন।
বিকাশের বাবা বিশু কর্মকার মুঠোফোনে বলেন, চিকিৎসার জন্য ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ফেরত এনেছেন লাশ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মাত্র ৫০ টাকা বকশিশ কম দেওয়ায় হাসপাতালের কর্মচারী অক্সিজেন মাস্ক খুলে আমার ছেলেকে হত্যা করেছেন। তবু থানায় মামলা করব না। গরিব মানুষ। মামলা চালানোর সামর্থ্য আমার নেই।’
বিশু কর্মকার বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। পকেটে সামান্য কয়েকটা টাকা নিয়ে ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলাম। নিচতলা থেকে তিনতলায় ট্রলি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে ডাকিনি। তিনি (আসাদুজ্জামান) নিজে থেকেই ট্রলি ঠেলে এনে ২০০ টাকা দাবি করেন। পকেটে টাকা না থাকায় ১৫০ টাকা দিয়েছি। তিনি আরও ৫০ টাকা দাবি করেন। পকেটে টাকা না থাকায় অনেক আকুতি-মিনতি করেছি। স্যার, স্যার বলে পায়ে ধরেছি। তবু মন গলেনি। ৫০ টাকা না পেয়ে মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে পা দিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলেছে ওই লোক। সঙ্গে সঙ্গে ছেলের মুখে ফেনা ওঠে। একটু পরই আমার ছেলে চিরতরে চোখ বোজে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে রোগীকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন। তবে পরিবার কোনো মামলা করবে না বলে জানিয়েছে। সেই কারণে লাশ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা মিললে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।