দুই হাতে ভারী দুই ব্যাগ নিয়ে সদরঘাট থেকে হেঁটে ফার্মগেটে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 23 July, 2021, 11:54 AM
দুই হাতে ভারী দুই ব্যাগ নিয়ে সদরঘাট থেকে হেঁটে ফার্মগেটে
ঈদ উপলক্ষে আট দিন শিথিলের পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে আবারও শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত ।
সকালে ঢাকার ফার্মগেট, পান্থপথ, গ্রিনরোড,মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, রিং রোড, আদাবর, ধানমন্ডি এলাকায় রাস্তায় যান চলাচল ছিল না বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি রিকশা চোখে পড়েছে। সকাল নয়টার আগে পান্থপথ, শাহবাগ, ফার্মগেট এলাকায় বেশ কিছু মানুষকে মালপত্র নিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে অনেককে যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের বেশির ভাগই ঈদ উদ্যাপন শেষে সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।
ফার্মগেট এলাকায় সকাল আটটার দিকে আব্দুল মতিন মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি লঞ্চে বরিশাল থেকে সদরঘাটে সকালে পৌঁছেছেন। কোনো যানবাহন না পেয়ে হাঁটতে হাঁটতেই সদরঘাট থেকে ফার্মগেটে এসেছেন। তাঁর দুই হাতে দুটি ভারী ব্যাগ দেখা যায়।
গণমাধ্যমকর্মী মো. ফরিদ জানান, সকালে কর্মস্থলে আসার পথে শাহজাহানপুরে তিনি অনেক মানুষকে কাঁধে ব্যাগ, মাথায় বস্তা নিয়ে উড়ালসড়কের ওপর দিয়ে যেতে দেখেছেন। তাঁরা সবাই সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। যানবাহন না পেয়ে হাঁটতে শুরু করেছেন।
আজ থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিনের এই বিধিনিষেধকে ‘সবচেয়ে কঠোরতম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা জানিয়ে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চান।
বিধিনিষেধ চলাকালে ‘অতি জরুরি’ প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মাঠে আছে সেনাবাহিনী। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগের বিধিনিষেধের মতোই এবারের বিধিনিষেধে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস; সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন; অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। দাপ্তরিক কাজ ভার্চ্যুয়ালি সম্পন্ন করবেন।
শপিং মল, মার্কেটসহ সব দোকানপাট, সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বিধিনিষেধে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকবে। আগের বিধিনিষেধের সময় শিল্পকারখানা খোলা ছিল। আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন, কৃষিপণ্য-উপকরণ, খাদ্যশস্য-খাদ্যদ্রব্য পরিবহন বা বিক্রি, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, করোনার টিকাদান, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংক, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য জরুরি বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য-সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইনে কেনা বা খাবার নিয়ে যাওয়া) করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে। বিদেশগামী যাত্রীরা তাঁদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট বা প্রমাণ দেখিয়ে গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়, বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। যা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবেন।
কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কঠোর বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে। খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল-কারখানা এবং ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্পও এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে।
ব্যাংক
কঠোরতম বিধিনিষেধ চলাকালে ব্যাংক খোলা থাকবে। তবে লেনদেন চলবে সীমিত সময়ের জন্য। ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংকগুলো আগামী রোববার থেকে গ্রাহক চাহিদামতো শাখা খোলা রাখবে। আর লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। কঠোরতম বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা নিয়ে ১৩ জুলাই এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা জানায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত বিধিনিষেধ চলাকালে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ফেরি-নৌযান
আজ সকাল থেকে ফেরিতে যাত্রীবাহী সব ধরনের গাড়ি ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হবে। বিআইডব্লিউটিসি এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার ও অন্যান্য) চলাচল বন্ধ থাকবে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ দিয়ে আসছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করে। তবে এখন পর্যন্ত করোনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি।