করোনা আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি। তাকে দুই লিটার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তাকে আরও কিছুদিন সিসিইউতে থাকতে হবে। এমনটি জানিয়ে তার মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে বৈঠকে বসে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সেখানে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনা করা হয়। এরপর চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে তাকে আরও কয়েকদিন সিসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আছে। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক চিকিৎসক বলেন, এখন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাকে আরও কয়েকদিন সিসিইউতে থাকতে হবে। তার আগের ওষুধের সঙ্গে নতুন কিছু ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন তার দুই লিটার অক্সিজেন চলছে।
সোমবার সকালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের নন-করোনা ইউনিটের কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
গত ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসের নমুনা দিলে ১১ এপ্রিল খালেদার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও খালেদা জিয়ার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
৭৫ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দু’দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়।