ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বীর মুক্তিযুদ্ধা সামছুল হক'র মৃত্যু
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 1 May, 2021, 3:39 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 1 May, 2021, 3:42 PM

বীর মুক্তিযুদ্ধা সামছুল হক'র মৃত্যু

বীর মুক্তিযুদ্ধা সামছুল হক'র মৃত্যু

বাংলাদেশ ডক্টরেট প্লাটফর্ম ইন ফিনল্যান্ড (বিডিপিএফ) এর একনিষ্ট  আজীবন সদস্য এবং উলু বিশববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল গবেষক ডক্টর মোঃ সানাউল হক এর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সামছুল হক  গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি ওয়া রাজিউন। মৃত্যুকালে ওনার বয়স হয়েছিল ৭৪।

আমরা ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার সাথে  ওনার শোকার্ত পরিবারের সুস্থ্যতার  জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে দোয়া করছি।

বীর মুক্তিযুদ্ধা মৃত মোঃ সামছুল হক এর ফেলে যাওয়া বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে কিছু কথা।
বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তৈরিকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনলাইন   ডাটাবেস থেকে জানা যায় ডক্টর মোঃ সানাউল হক এর পিতা মৃত মোঃ সামছুল হক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্লাটুন কমান্ডার এবং কোম্পানি সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, করিমগঞ্জ থানা, কিশোরগঞ্জ বলাবাহুল্য যে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম তালিকা তৈরি করা হয়েছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর "লাল মুক্তিবার্তা" তে - এটি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম অফিসিয়াল ডকুমেন্ট সেখানেও ডক্টর সানাউলের বাবার নামটি নিবন্ধিত ছিল আগেই।

কিশোরগঞ্জ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পানাহার গ্রামে জন্ম গ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা  মৃত মোঃ সামছুল হক ছিলেন তাঁর বাবার সংসারের বড় সন্তান। ছোট ছোট ৪ ভাই ও ৫ বোনের মায়া আর বাবা মায়ের ভালোবাসাকে বিসর্জন দেন মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্যে। মাত্র ২২ বছর বয়সে একাত্তরের মার্চ মাসে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় দিন পায়ে হেটে, তৃষ্ণার্ত গলায়, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নিজ গ্রামে (পানাহার) পৌঁছান বাবা।

এরপর আরো দুদিন  পায়ে হেটে গোপনে কাউকে না বলে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) "ডালু" বর্ডার হয়ে চলে আসেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুড়া পাহাড়ি পর্বতে অবস্থিত "তুরা ট্রেনিং সেন্টারে" গেরিলা ট্রেনিং নিতে। জঙ্গলে বাঁশের চাটাই দিয়ে বানানো তাঁবুর ভেতর কীট পতঙ্গের কামড় খেয়ে দীর্ঘ ২১ দিনের গেরিলা ট্রেনিং শেষে নিজ দেশে অস্ত্র (স্টেনগান) হাতে ফিরে আসেন সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা  মোঃ সামছুল হক।

১৯৭১ সালটিতে করিমগঞ্জ থানাটি পাক-আর্মির দখলে ছিল।  মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক সহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অকস্মাৎ এবং একাধিক গেরিলা আক্রমণে কোনঠাসা হয়ে চুপিসারে একদিন পালিয়ে যায় পাক-আর্মিরা। এরপর করিমগঞ্জ থানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লড়াকু সৈনিকরা।

সেই সময়ে দীর্ঘ একমাস করিমগঞ্জ থানার ওসি-এর চেয়ারটিতে ডক্টর সানাউলের বাবাই বসেছিলেন। একমাস পর সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী অস্ত্র জমা দিয়ে যে যার কর্মস্থলে ফিরে যান করিমগঞ্জ থানার নিয়ন্ত্রণ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা। উনি  উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড (তৎকালীন ইস্টার্ন ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন) এর ৭৩ ব্যাচ "শিক্ষানবিশ অফিসার" পদে যোগদান করেন এবং ২০০৯ সালে ডি.জি.এম পদমর্যাদা নিয়ে সততা, নিষ্ঠা এবং সম্মানের সহিত অবসর গ্রহণ করেন। অবসর সময়ে তিনি  সামাজিক গঠনমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে এবং তিলে তিলে কষ্টে গড়া ঢাকার নিজ বাড়ির (কুরিল, বিশ্বরোড) ছাদ বাগানে ফলফলাদি চাষ করে সময় পার করতেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা  মৃত মোঃ সামছুল হক নিজ সন্তানদের (এক ছেলে এক মেয়ে) উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং ভালো মানুষ হিসেবে রেখে গেছেন আমাদের মাঝে । আবারো  বিডিপিএফ –এর পক্ষ্য থেকে ডক্টর মোঃ সানউল হক এর বাবার আত্মা যেন জান্নাতবাসী হোন এই দোয়া করছি ।  


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status