হাট মানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে কেনাবেচার স্থান। কিন্তু ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী এলাকায় এমন এক হাট বসেছে, যেখানে বিনা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে পণ্য বা জিনিস। পহেলা বৈশাখে (বুধবার) চালু হওয়া এই ‘ফ্রি হাটে’ দরিদ্র-অসহায়দের দেওয়া হচ্ছে সবজি, মাছ, খেলনা ইত্যাদি।
‘ফ্রি হাট’-এর উদ্যোক্তা স্থানীয় ‘মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। হাটটি রমজান মাসজুড়ে সপ্তাহে এক দিন (বুধবার) বসছে।
পহেলা বৈশাখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ইরা গ্যাস স্টেশন চত্বরে বিনা মূল্যের হাটটি বসে। এ দিন সাড়ে ৫০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী এবং শিশুদের ঘুড়ি, বেলুন ইত্যাদি খেলনা দেওয়া হয়। খাদ্যপণ্যের মধ্যে ছিল লাউ, মিষ্টি কুমড়া, আলু, ঢেঁড়শ, টমেটো, মাছ ও খেজুর। বৈশাখী স্টলে ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলনা। পরে আরো দুইদিন এ হাট বসে।
হাটে গিয়ে দেখা যায়, সুশৃঙ্খল পরিবেশ। চত্বরের এক পাশে প্যান্ডেলের নিচে টেবিলে তাজা মাছ, সবজি, বৈশাখী মেলার খেলনা ইত্যাদি থরে থরে সাজানো। সেখান থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুদের হাতে তাদের পছন্দমতো পণ্য তুলে দিচ্ছেন মুক্তির বন্ধনের স্বেচ্ছাসেবকরা। কিছু তরুণ হাটুরেদের তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি পালনের বিষয়ে নজরদারি করছিলেন।
আঠারবাড়ী ইউনিয়নের সরাতি গ্রাম থেকে বিনা মূল্যের হাটে এসেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গাজিউর রহমান। তিনি চার-পাঁচ পদের সবজি, একটি তাজা মাছ ও নাতির জন্য খেলনা নিয়েছেন। তিনি টাটকা মাছ পেয়ে চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘মাশাআল্লাহ, বাজারে জিনিস যাঁরা মাগনা দিছে, তাঁরারে যেন আল্লায় ভালা করে।’ শারীরিক প্রতিবন্ধী নিঝুম (১৯) জিনিসপত্র পেয়ে বলেন, ‘এই জিনিস দিয়া কয়েক দিন চলব।’ আবুল হাসেম বলেন, ‘সরকারি জিনিস কইদ্যা আয়ে কইদ্যা যায় টের পাই না। কিন্তু এই ভাইয়েরা (মুক্তির বন্ধন) গত বছর দিছে,
আমরা পাইছিলাম। এইবারও পাইলাম।’ সহিলহাটি গ্রামের লোকমান হোসেন (৫৫) জানান, গত সপ্তাহে একমাত্র ভরসা বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় তিনি চোখে অন্ধকার দেখছেন। রোজা উপলক্ষে বাজার-সদাই করেননি। এই অবস্থায় মুক্তির বন্ধনের সদস্যরা তাঁকে খুঁজে বের করে হাটে এনে প্রয়োজনীয় সব কিছু বিনা মূল্যে দিয়েছে।
মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সংগঠক অনিক কুমার নন্দী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়ে বিপাকে পড়া হতদরিদ্র মানুষকে রমজান উপলক্ষে সাহায্য করা হচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় এ ধরনের হাট বসিয়ে লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা দরকার। কর্মসূচি সমন্বয়ক মো. আজহারুল ইসলাম পলাশ বলেন, হাটটি রমজান মাসে আরো দুইবার বসবে। চাহিদা ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাটে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত হতে পারে।