বিয়ের এক বছরের মাথায় স্ত্রী ইভার সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় সুজনের। ডিভোর্স দেন স্ত্রী ইভা। কিন্তু ডিভোর্সের পরও ইভার প্রতি টান থেকে যায় সুজনের। আর এই টানই যে তার জন্য একদিন কাল হয়ে দাঁড়াবে সেটি আঁচ করতে পারেননি সুজন। নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন তিনি।
রাজধানীর সবুজবাগের সুজন (২৬) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ফজলু ওরফে কুটিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআইর দাবি, সোমবার রাতে রাজধানীর মুগদা থানার জান্নাতবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি বিশেষ টিম। আর গ্রেফতার কুটির স্বজনরা বলছেন, তাকে তিনদিন আগেই ধরে নেয়া হয়েছে।
২০১১ সালের ১৪ মার্চ সুজন তার বন্ধু ফজলু কুটির সঙ্গে বাসা থেকে বের হন। ওই বছরের ১৮ মার্চ দুপুরে সবুজবাগ থানার দক্ষিণ রাজারবাগ বাগপাড়া শেষমাথা খালের ময়লা পানিতে কচুরিপানার সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় সুজনের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা সবুজবাগ থানায় মামলা করেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গণি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মামলাটি প্রথমে সবুজবাগ থানা পুলিশ ও পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ প্রায় সাত বছর তদন্তের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও অভিযুক্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, আরিফুল হক ওরফে আরিফ ও রানা ওরফে বাবু গ্রেফতার না হওয়ায় এবং পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভিকটিমের বাবা আদালতে নারাজি দেন। এরপর আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ইতোপূর্বে পলাতক আসামি ইভা, আরিফ ও রানাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে আরিফ হত্যাকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। এরপর সোমবার রাতে ফজলু ওরফে কুটিকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, ২০০৮ সালে সুজনের সঙ্গে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে ইভা সুজনকে ডিভোর্স দেয়। এরপরও সুজন প্রায়সময় ইভাকে দেখতে তাদের এলাকায় আসাযাওয়া করত। ইভার সঙ্গে সুজনের বিয়ের আগে থেকেই স্থানীয় ফাইজুল ইভাকে পছন্দ করত। এ ঘটনায় ফাইজুল, ইভার বড় ভাই আরিফের সঙ্গে সুজনের বিভিন্ন সময় তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়।
এদিকে যোগাযোগ করা হলে কুটির ভাই কালাম বলেন, তিনদিন আগে বাসা থেকে কুটিকে ধরে নিয়ে গেছে পিবিআই।