ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
যে কারণে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের কাঁধে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 28 June, 2020, 8:28 PM

যে কারণে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের কাঁধে

যে কারণে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের কাঁধে

‘এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, কেন এই বিল বেশি আসছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ‘

করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রতিমাসের বিল আলাদা না করে তিনমাসের বিল একসঙ্গে প্রস্তুত করায় অতিরিক্ত বিলের কারণে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র পূরণের জন্যই গ্রাহকদের অনেককে অতিরিক্ত এ বিলের মাশুল গুণতে হচ্ছে। এছাড়া রিডিং দেখে বিল না তৈরি করাও এর পেছনের অন্যতম কারণ।

করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন শুরুর আগে গত ২২ মার্চ দেশব্যাপী বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়, মার্চ, এপ্রিল, মে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল দিতে দেরি হলে কোনও জরিমানা গুণতে হবে না।

এরপর আবার জুনমাসে বলা হয়, ৩০ জুনের পর থেকে এই সুবিধা আর বাড়ানো হবে না, এমনকি এই সময়ের ভেতর বিদ্যুৎ বিল না দেওয়া হলে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার কথাও বলা হয়। এরমধ্যে মে মাসে অন্যায্যভাবে গ্রাহকরা ভূতুড়ে বিল পেতে শুরু করেন।

আর এই অতিরিক্ত বিলের কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে  বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ।

সরকারি আইনানুযায়ী, বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে ৬টি ধাপ রয়েছে। ০ থেকে ৭৫ ইউনিটের মধ্যে প্রথম ধাপে গ্রাহকদের খরচ পড়ে ৪.১৯ টাকা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে খরচ পড়ে ৫.৭২ টাকা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটের মধ্যে তৃতীয় ধাপে ৬ টাকা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের এ ধাপে ৬.৩৪ টাকা এবং ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের মধ্যে পঞ্চম ধাপে ৯.৯৪ টাকা, ৬০১ ইউনিটের ওপর অর্থাৎ ষষ্ঠ ধাপে ১১.৬৪ টাকা।

বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষকে, করোনাভাইরাসের কারণে সব বাড়িতে গিয়ে মিটার দেখতে না পারায় বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে একটি গড় হিসাব তুলে ধরতে বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু দেখা গেছে, বিতরণ কর্তৃপক্ষগুলো বিদ্যুতের বিলের গড় করেনি। বরং রিডিং  সঠিক ভাবে না দেখায়, ব্যবহারের তুলনায় বেশি ধরায়  গ্রাহকের বিদ্যুতের ইউনিট বেশি হয়ে গেছে। এ কারণেই এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ধানমন্ডির এক গ্রাহক জানান, গত মার্চে ৪১৩ ইউনিটের বিদ্যুতের জন্য ২,৩৯২ টাকা বিল দিতে হয়েছে। এটি এপিলে বেড়ে ৩,৩৬১ টাকা হয়ে গেছে, যেখানে তিনি ব্যবহার করেছেন ৪৯৬ ইউনিট।

 মে মাসে ডিপিডিসি সঠিকভাবে রিডিং না নিয়েই বিল করেছে, বিল করার পর দেখা গেছে তাকে ১,০৮২ ইউনিটের ব্যবহারের হিসাব দেখাচ্ছে এবং বিল দেখাচ্ছে ১০,৫৪৭ টাকা, যেটি কোনও ভাবেই সঠিক নয়।

 বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমির আলী স্ল্যাব পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “অনেকের ক্ষেত্রে তিন মাসের বিল একসঙ্গে করতে গিয়ে বিদ্যুতের দাম উপরের স্ল্যাবে চলে গেছে। তাদের কথা চিন্তা করে আমরা চেষ্টা করেছি, তিন মাসের গড় করে একটা বিল দিতে। যাতে গ্রাহক নিজের স্ল্যাবের বিদ্যুতের দামেই বিল পরিশোধ করতে পারেন।”

ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের আগেই আমাদের ডিপিডিসি’তে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কেন এই বিল বেশি আসছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এখন পযন্ত আমাদের কাছে ১৮ হাজার ওভার বিলিং হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও আন্ডার বিলিংও হয়েছে। ১৪ হাজারের মতো আন্ডার বিল হয়েছে। প্রত্যেকটি বিল আবার চেক করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আবার গিয়ে মিটার চেক করবে। ভুল হলে বিলের কাগজে লিখে দিতে হবে বিলে ভুল হয়েছিল। সব মিলিয়ে আমরা সব বিলই ঠিক করে দেবো।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status