মহামারি করোনাভাইরাসের ছোবলে বিশ্বব্যাপী প্রাণ হারিয়েছে ৩২ হাজার ১৩৭ জন। এ সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। হু-হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। করোনায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ছয় লাখ ৮৩ হাজার ৫০২ জন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১০মিনিট পর্যন্ত এ খবর জানা গেছে।
করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর, চীনের উহান শহরে। শুরুতে এই ভাইরাসের প্রকোপ যতটা ছিল, এখন তার চেয়ে অনেকগুণ বেড়েছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারসের লাইভ তথ্য মতে, ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক লাখ ২৩ হাজার ৭৮১ জন সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে এরপরই অবস্থান ইতালির। দেশটিতে ৯২ হাজার ৪৭২ জন করোনায় আক্রান্ত। আর মারা গেছেন ১০ হাজার ২৩ জন।
অপরদিকে দেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। এর আগে দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত ছিলেন ৪৮ জন। তাদের মধ্যে মোট ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তারা সবাই মৃদু আক্রান্ত ছিলেন। সুস্থদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী।
করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে চীন। বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যম এবং রাজনীতিকরা এ ঘটনায় প্রথম থেকেই চীনের দিকে অঙুল তুলেছেন। তবে চীন প্রথম থেকেই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোবলে বুক চিতিয়ে লড়াই করছে। প্রকৃতপক্ষে চীন শুরু থেকেই যদি পরিস্থিতি কঠোরভাবে সামাল না দিত, তাহলে বিশ্ব পরিস্থতি হয়তো আরো ভয়াবহ হতো।
চীনের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে হলেও ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, জার্মানিসহ অনেক দেশই মৃত্যুর মুখ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারছে না। প্রতিদিন যে হারে শত শত মানুষ মরছে, তা শিউরে ওঠার মতোই। ইতালির স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, মাত্র ৩৬ দিনে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ করোনা সনাক্তের প্রথম ৮০ দিনে সারাবিশ্বে মারা গেছে এতগুলো মানুষ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
এ ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।