প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ নিয়ে দেশটিতে দুইজনের প্রাণহানিও হলো।
রোববার সন্ধ্যায় দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ৭০ বছরের ওই ব্যক্তি সম্প্রতি ইরান সফর করেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের বাসিন্দা ছিলেন। এর আগে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৫০ বছরের আরো এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সবশেষ ব্যস্ত নগরী নিউ ইয়র্কে একজনের আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ভাইরাস মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে গত দুই দিনে আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমলেও আবারো বাড়তে শুরু করেছে এর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন আরো ৬২ জন। এর মধ্যে শুধু চীনেই ৪২ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ২৬ জন।
চীনের পর এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইরানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর সরকারি হিসাবেই আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৮ জন। এরইমধ্যে ইরানের অনেক এলাকা এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে কয়েকটি দেশ। সচল এলাকাগুলোতে আতঙ্কিত মানুষ মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন।
রাজধানী তেহরানে কাজের সময়ও অপেক্ষাকৃত কম ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১০টি প্রদেশে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাস্ক বা দস্তানার মতো প্রতিরোধ সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনমনে অসন্তোষ রয়েছে।
ইরানের এক শ্রমিক বলেন, সব জায়গায় মাস্কের দাম বেড়েছে। আমার মতো একজন সাধারণ শ্রমিক কীভাবে তা কিনি বলুন তো? আমার পরিবারে তো আমি একা নই। সবার জন্যই মাস্ক কিনতে হবে।
এদিকে দিন যত যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়াতে করোনাভাইরাসের ভয়বহতার রূপ ততই বড়ছে। মৃতের সংখ্যায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও চীনের বাহিরে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে সোমবার সকাল পর্যন্ত আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মারা গেছেন ২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজারেরও বেশি নাগরিকের দেহে করোনা সনাক্ত করেছে দেশটির চিকিৎসা বিভাগ। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২১২ জনে। রাজধানী ছাড়িয়ে এটি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে। অব্যাহত আছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
জানা গেছে, ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ইতালির কার্নিভাল উৎসব বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিখ্যাত পোশাক নকশাকার জর্জিও আরমানি লাইভ ফ্যাশন শো বাতিল করে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সূত্র: আল জাজিরা