ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৬ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
রাজধানীতে পাচারকালে ৪ তরুণী উদ্ধার করলো র‌্যাব
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 24 November, 2019, 5:23 PM

রাজধানীতে পাচারকালে ৪ তরুণী উদ্ধার করলো র‌্যাব

রাজধানীতে পাচারকালে ৪ তরুণী উদ্ধার করলো র‌্যাব

রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় ভিকটিম চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে র‌্যাব-১১ এর এক বিশেষ দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো মোড় থেকে পাঁচজনকে আটক করে। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও বিমানের টিকেটসহ চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানান, মানবপাচারে জড়িত একটি চক্রের উপর দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী করছিল। শনিবার রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিতিতে রূপগঞ্জের তারাবো মোড়ের শাহ চন্দপুরী রেস্টুরেন্টে চার তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে একত্রিত করা হয়েছে এমন খবরে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় পাচারকারী চক্রের তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট অনিক হোসেন (৩১), আক্তার হোসেন (৪০), পাসপোর্ট প্রস্তুতকারী দালাল আফতাউল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৭) এবং দুবায়ের ড্যান্স ক্লাবের মালিক মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০) ও আব্দুল হান্নানকে (৫২) গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্যে খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মো. আকাশকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৭০টি পাসপোর্ট, নগদ এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ২০০ পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমান টিকেট, ৫০টি ট্যুরিস্ট ভিসার ফটোকপি, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত থাকা চার ভিকটিম তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ১৫-২৫ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্টের দালাল, ড্যান্স বারের মালিক, ট্র্যাভেল এজেন্সি জড়িত।

নারী পাচারকারী এ সিন্ডিকেটের এজেন্টরা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের, পোষাক শিল্পের, ব্রোকেন ফ্যামিলির সুন্দরী তরুণীদের প্রাথমিকভাবে টার্গেট করে থাকে। টার্গেটের পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে ড্যান্স বারের মালিকের কাছে পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক অথবা তার প্রেরিত প্রতিনিধি সরাসরি তরুণীদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্ট, হোটেল অথবা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করে থাকে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে থাকে। ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব তরুণীকে মধ্যপাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, এসব তরুণীরা বিদেশে পৌঁছামাত্র এয়ারপোর্ট থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখতো। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে এ সব তরুণীদের কোনো অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছায় হোটেল তথা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেয়া হয় না।

প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা আসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হয়। এভাবে দিনের পর দিন তরুণীদের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চলতে থাকে। খদ্দরের নির্দিষ্ট কোনো তরুণীকে পছন্দ হলে ড্যান্স বারের মালিকের কাছে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কয়েক দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে যেত। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status