দূর্ঘটনাকে চাঁদা দাবির হামলা বলে নিরিহদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: Thursday, 7 November, 2019, 10:35 PM
দূর্ঘটনাকে চাঁদা দাবির হামলা বলে নিরিহদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর সাহেবের হাট ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কাদিরপন্ডিতের হাটে সাঁকু থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাকে চাঁদার দাবীতে মরধরে রুপান্তরিত করে ওই এলাকার ব্যবসায়ি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ ৭জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন পলাশের বিরুদ্ধে।
জানাযায়, নিজের অসাবধানতার করেন ঊনচল্লিশ বছরের এ যুবক সাহেবের হাট ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড দীঘির পাড়ের রাস্তা দিয়ে রাতের অন্ধকারে পথ চলতে চলতে হঠাৎ পরিত্যক্ত কালভার্টের পাশে সাঁকু পারাপারে পা ছিঁটকিয়ে পড়ে আহত হয়। ওই যুবক এ দুর্ঘটনাকে পূজিঁ করে পূর্বের শক্রতা উদ্ধার করতে কাদিরপন্ডিতের হাটের ব্যবসায়ী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা ন্যাক্কারজনক অপরাধ বলে দাবী করেন এলাকাবাসি। তারা নিরাপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
জেলার কমলনগর উপজেলার সাহের হাট ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের কাদির পন্ডিতের হাট গ্রামের বাসিন্দা মরহুম নাজিম উদ্দিনের পুত্র রিয়াজ উদ্দিন পলাশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে দেকানি নিজাম জানান, আমার দোকানের পাশে পরিত্যক্ত কালভার্ট থেকে রাতের অন্ধকারে একটি শব্দ শুনে আমি সেখানে গিয়ে দেখি পলাশ নামের একটি লোক সাঁকুর নিচে পড়ে আছে। এ সময় তার সাথে থাকা একটি লোক তাকে উদ্ধারে চেষ্টা করছে। একই কথা বললেন, সাকুঁর পাশের বসিন্দা আলাউদ্দিনের স্ত্রী বিবি ফাতেমা।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোঃ খলিল জানান, কালভার্ট পাড়ে আমি নিজামের দোকানে চা খেতে বসি, এ সময় অন্ধকারে একজন পুরুষ কন্ঠে শুনতে পায় "পড়বি" এরপরই পলাশ নামের লোকটি সাঁকু থেকে ছিঁটকে গর্ত পড়ে যায়। চিৎকার শুনে ওই স্থানে আমরা কয়েজন গিয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করি।
বুধবার (৬নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে ওই এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক জড়ে হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পলাশের নিদির্ষ্ট কোন পেশা নেই, এলাকার জেলে, কৃষক ও ক্ষুদে ব্যাবসায়ী সহ সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা আদায় করে নেয়। এ বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তার দলীয় লোকজন দ্বারা হামলার শিকার হয়। তার থেকে চাঁদা দাবি করা এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট, কাল্পনিক বিষয় বলে তারা জানান। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় যারা তার দাবী সম্পূর্ণ পূরণ করতে পারেনি তাদেরকে সাঁকু থেকে পড়ার ঘটনাকে চাঁদা দাবি ঘটনা সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে তারা বলেন।
ব্যবসায়ী আজাদ জানান, পলাশ আমার দোকানে বাকিতে সদাই নিত আমি ২৩শ'টাকা পাওনা ওই টাকা চাওয়ায় আমার প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে পাল্টা টাকা দাবী করে আমার লাইট নিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দিয়ে চলে যায়। এরপর সাঁকু দূর্ঘটনায় আমাকে সহ ৭জনকে মিথ্যা মালায় জড়িত করে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় কটরিয়া মাছ ঘাটের সেক্রেটারী ইসমাইল হোসেন জানান, ঘটনার দিন রাত্রে পলাশ তার দলীয় লোক এনে মাছ ঘাটে চাঁদা দাবী করে জেলেদের মাছ লুট করে নেওয়ার চেষ্টা করলে ৩হাজার টাকা দিলে পাশ্ববর্তী দীঘির পাড়ের রাস্তা দিয়ে আপর জেলেদের ধরতে গিয়ে সাঁকু থেকে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানান।
পলাশের দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী রুবেল জানান, আমি খবর শুনে ঘটনাস্থলে তাকে আহত অবস্থা দেখি, তাকে জিজ্ঞেস করলে পলাশ জানায় সাঁকু থেকে পা পিছলে পড়ে যায়। মামলার সাক্ষীর বিষয় তিনি অবগত নয় বলে জানান।
ভূক্তভোগি সামছুন নাহার ও কামরুন নাহার জানান, আমাদের মেয়েকে বিবাহ দিলে পলাশ এসে আমাদের নিকট চাঁদা দাবী করে। নচেৎ মেয়েদের ক্ষতি করবে। বাধ্য হয়ে সাড়ে ৫ হাজার ও দুই হাজার টাকা দিয়ে মুক্ত হয় বলে জানান।
ষাটয়ার্দ্ধের নারী মাহফুজা, ফেল ফেল করে কেঁধে জানায়, আমি মানুষ থেকে খুঁজে খাই, আমার পালিত মুরগ হাটে ৫শ' টাকা বিক্রি করে ফিরার পথে পলাশ আমার থেকে জোরপূর্বক ওই টাকা নিয়ে যায় বলে জানান।
দীর্ঘ বছর যাবত কমলনগর উপজেলাটি মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার একর বাড়ী ঘর ও ফসলি জমিন নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে, মানচিত্র থেকে মুছার উপক্রম হচ্ছে উপজেলাটি। সহায় সম্বল হারিয়ে তবুও দু' মুঠ অন্ন যোগানের তাগিদে নদীর সাথে যুদ্ধ করে এ অঞ্চলের মানুষের বসবাস করছে। ভূমিহীন মানুষেরা জীবিকার তাগিদে নদীর পাড়েই আশ্রয় নিচ্ছে। এ ক্ষত জীবনের ওপর এমন অন্যায় নিয়ন্ত্রণ চললে এটা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিবে বলে মনে করেন সূধিজনরা। তারা অচিরেই এ ধরণের ন্যাক্কার জনক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান।
প্রসঙ্গত: রিয়াজ উদ্দিন পলাশ বাদী হয়ে মফিজ উল্যাহ গং সহ ৭জনকে বিবাদী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কমলনগর আদালত, লক্ষ্মীপুরে বিগত ৪/১১/১৯ইং তারিখে সি.আর মামলা নং ৫৫২/১৯ইং দায়ের করে।