আবরারের মৃত্যু : পুলিশের ভূমিকা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 5 November, 2019, 1:13 PM
আবরারের মৃত্যু : পুলিশের ভূমিকা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর পর পুলিশ কী ভূমিকা নিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পোস্টমর্টেম ছাড়াই আবরারকে কেন দাফন করা হয়েছে, কাছের হাসপাতাল থাকতে কেন দূরের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সেই প্রশ্নও তুলেছেন সরকারপ্রধান।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এ প্রসঙ্গ তোলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। সেই সঙ্গে যাদের গাফিলতি আছে তা খতিয়ে দেখতে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তোলার পরই মন্ত্রিসভার অনেকেই এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা মানবাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার নিয়ে এত এত বাণী শোনায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে একটি শিশু মারা গেল, তার পরও তারা অনুষ্ঠান চালিয়ে গেল, এটা কেমন কথা?’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চান। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মন্ত্রিসভার অনির্ধারিত আলোচনায় তুলবেন, তা তাঁদের কেউ ভাবতেও পারেননি। তাই প্রধানমন্ত্রী যখন প্রসঙ্গটি নিজেই তোলেন তখন প্রায় সবাই এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সূত্র আরো জানায়, পুলিশের পক্ষ থেকে বা অন্য যেভাবেই হোক এ ঘটনা তদন্তে মামলা করা হতে পারে এবং সব বিষয় পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র মতে, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তুলেছেন সেটা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুুদের দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় নাইমুল আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, একটা স্কুলে কিশোরদের নিয়ে যখন এ ধরনের প্রগ্রাম করবে, তখন সেখানে ইলেকট্রিক তার টানানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা উচিত ছিল।
এখানে আয়োজকদের গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্র মারা যাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে হাসপাতাল থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিশোর আলো তো প্রথম আলোরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান। যারা আয়োজন করেছে তাদের কী গাফিলতি ছিল, সেগুলো তো নিশ্চয়ই তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
গত শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোর আলোর একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। এর পরও আয়োজকদের কনসার্ট চালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেছে, অনুষ্ঠান চলাকালে তারা জানতেই পারেনি কোনো দুর্ঘটনার কথা। বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার পর আবরারকে চিকিৎসার জন্য রাস্তার উল্টো পাশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো কেন?
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন নিহত আবরার রাহাতের বাবা। স্কুলের দিবা শাখার ছাত্র আবরারের বাড়ি নোয়াখালী। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবারের সঙ্গে থাকত সে।