রাজধানীর হাজারীবাগে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে আরিফুল ইসলাম সজলকে (১৯)। শুরুতে জানা গিয়েছিল বান্ধবীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার কারণেই এই হত্যা। কিন্তু নিহতের পরিবার বলছে, সজল হত্যার সঙ্গে বান্ধবীরও যোগসাজশ আছে। এ যেন আরেক মিন্নি-রিফাতের গল্প।
সজল তার পরিবারের সঙ্গে লালবাগ পশ্চিম ইসলামবাগ এলাকার ৭০/২২/এ ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকতেন। তারা তিন ভাই-বোন। সবার বড় ভাই মাকসুদুল আলম শান্ত অনার্সে ভর্তি হবেন। আর সবার ছোট বোন সূচনা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা শহীদুল ইসলাম চুনু ইসলামবাগ এলাকায় প্লাস্টিক কাঁচামাল সামগ্রীর ব্যবসা করেন। আর মা শিল্পী বেগম গৃহিণী।
রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে গত বছর এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে পাস করে সজল। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজে ইন্টারমেডিয়েটে ভর্তি হয়। সে প্রতিদিন সকাল বেলা কলেজে যেত আর বিকেলে ফিরে বাসায় থাকত। বিকেলে প্রাইভেট টিউটর আসত, পড়ার পরও বাসাতেই থাকত। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কলেজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ফেরে বিকেল ৪টায়। প্রাইভেট শিক্ষক এক ঘণ্টা পড়িয়ে চলে যায়। এরপর সে আবার বাইরে যায়। রাত ৮টার দিকে এক মেয়ে ফোন করে বলে, সজলের অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। সজলের পরিবার ঢামেকে গিয়ে জানতে পারে, সে অনেক আগেই মারা গেছে।
সজলের কলেজের বন্ধুরা বলছে, সজল কথা কম বলত। কলেজে কোনো মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না। তবে ফেসবুক একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার। ওই মেয়ে একই বর্ষে পড়লেও সে সজলের কলেজের নয়।
মেয়েটি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সজলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা বিয়ে করবে বলেও ঠিক করেছিল। একটা চাকরি পেয়েছে, সেটা জানাতেই সজলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল মেয়েটি। এসময় বখাটেরা তাকে উত্ত্যক্ত করে। সজল প্রথমে ধরে ওদের একজনকে চর দেয়। পরে তারা আরও ছেলেপেলে ডেকে এনে সজলকে মারধর করে। একপর্যায়ে ধারাল কিছু দিয়ে কোপায়। এতে সজলের মৃত্যু হয়।
পুলিশ বলছে, দুই দিক দিয়েই তদন্ত চলছে। বরগুনার মিন্নির মতো ঘটনা কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মেয়ে বন্ধুর দেওয়া তথ্যানুযায়ী বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মেয়েটি সব দিক থেকে সহযোগিতা করছে। ওই মেয়েই সজলকে উদ্ধার করে প্রথমে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে মেয়েটি হত্যাকাণ্ডে মেয়েটির জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।
পরিবারের দাবি, সজলের ওই বান্ধবী নিজেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশ মূল রহস্য বের করতে পারবে।