|
ধর্মান্তরিত যুবকের লাশ নিয়ে টানাটানি, কাবিননামা দেখিয়ে স্বামী পেলেন স্ত্রী
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ধর্মান্তরিত যুবকের লাশ নিয়ে টানাটানি, কাবিননামা দেখিয়ে স্বামী পেলেন স্ত্রী একদিকে ছেলের লাশ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সৎকার করতে চান বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে স্বামীর ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে মুসলিম রীতিতে দাফনের দাবি জানান স্ত্রী। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে লাশটি নিয়ে যাওয়া হয় কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে। পরে বিয়ের কাবিননামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন স্ত্রী। স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা ও পুলিশের উদ্যোগে শেষপর্যন্ত লাশ স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কবরস্থানে দাফন করা হয় ওই যুবককে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকায়। নিহত যুবকের নাম চঞ্চল কুমার। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি আব্দুল্লাহ নাম ধারণ করেন। তিনি কার্পাসডাঙ্গা আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা শ্রী মিলন কুমারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চঞ্চল কুমার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন আব্দুল্লাহ। পরে পাশের গ্রামের এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনযাপন করছিলেন আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার ঢাকা যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের শ্রীপুর মোড়ে একটি পরিবহণ বাস দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর তার লাশ গ্রামের বাড়ি কার্পাসডাঙ্গায় পৌঁছালে দাফন ও সৎকারের বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের বাবা শ্রী মিলন কুমার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের ছেলের লাশ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকারের দাবি জানান। তাদের অবস্থানের বিপরীতে স্ত্রী হামিদা খাতুন বলেন, তার স্বামী প্রায় দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছেন। সেই হিসেবে স্বামীর জানাজা শেষে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে চান তিনি। স্বামীর লাশের দাফন নিয়ে দুইপক্ষের এমন বিপরীত অবস্থানে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিরোধের কারণে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য লাশটি কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে উভয়পক্ষের দাবির বিষয়টি সামনে আসে। এ সময় স্ত্রী হামিদা বেগম তার বিয়ের কাবিননামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন। স্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাকে বিয়ে করেছেন, এমন দাবি তুলে তিনি লাশটি নিজের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান। অন্যদিকে নিহতের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। পরে এসআই মোকলেস, দর্শনা ডিলাক্স পরিবহণের মালিক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা নিহতের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের পরিস্থিতি বুঝিয়ে শান্ত করার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে লাশটি স্ত্রী হামিদা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লাশ হস্তান্তরের পর কার্পাসডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে আব্দুল্লাহকে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করা যুবকের লাশের দাফন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের অবসান ঘটে। কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুম্মান খান জানান, নিহতের স্ত্রী বিয়ের কাবিননামাসহ বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর লাশটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিনও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মুসলিম স্ত্রী বিয়ের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর লাশটি তার কাছে দেওয়া হয়। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
