ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা: সেই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 7 April, 2019, 5:01 PM
ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা: সেই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সেখানে আজ কোনো ক্লাস হয়নি। ওই কেন্দ্রে শনিবার (৬ এপ্রিল) এক আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফি (১৮) গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর এমনটা ঘটেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনা দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রোববার (৭ এপ্রিল) সকালে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম। সভায় অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত ও দগ্ধ ছাত্রীর চিকিৎসায় মাদ্রাসার তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা প্রদানসহ ৭টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এগুলো হল- সোনাগাজী মাদ্রাসার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম। সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যক্ষকে গ্রেফতারের দিন থেকে সাময়িক বরখাস্ত। ভিকটিম নুসরাতের চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য মাদ্রাসা তহবিল এবং শিক্ষকদের পক্ষ হতে ২ লাখ টাকা অনুদান প্রদান, অগ্নিসংযোগকারী দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করার জন্য মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা, মাদ্রাসার নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান, আলিম পরীক্ষা চলার সময় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা। এছাড়া কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কারাবন্দী অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এক সময় জামায়াতের রোকন ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা জামায়াতের আমির এ কে এম শামসুদ্দিন। বিভিন্ন অভিযোগে ২০১৬ সালে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় ফেনী সদর ও সোনাগাজী মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তখন তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে ছাড়া পান।
অন্যদিকে রোববার দুপুরে সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আবুল ফয়েজ। এদিকে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হায়দার জর্জ বিবৃতি প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত ; গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা শ্লীলতাহানি করেন অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষ এখন কারাগারে। ওই ছাত্রীর ভাইয়ের অভিযোগ, গতকাল শনিবার মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বান্ধবীকে মারধর করা হচ্ছে-এমন খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন ছাত্রীটি। যাওয়ার পরই তাঁকে ঘিরে ধরেন বোরকা পরা চার-পাঁচজন ছাত্রী। তাঁরা শাসাতে থাকেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেন মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। জবাবে মেয়েটি বলেছিলেন, তিনি যে অভিযোগ করেছেন, তা সত্য এবং ‘শেষ নিশ্বাস’ পর্যন্ত তিনি এর প্রতিবাদ করবেন। এরপর ওই ছাত্রীদের কেউ তাঁর হাত, কেউ পা ধরেন এবং গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, মাদ্রাসাটি পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার একজন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।