|
একের পর এক কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা ‘গুটিয়ে নিচ্ছে’ এস আলম গ্রুপ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() একের পর এক কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা ‘গুটিয়ে নিচ্ছে’ এস আলম গ্রুপ কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিত্রটি দ্রুত পাল্টে যায়। একের পর এক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, আদালতের নির্দেশে সম্পদ ও হিসাব জব্দ, অর্থ পাচার ও ঋণ কেলেঙ্কারির তদন্ত, নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তীব্র তারল্য সংকট; সব মিলিয়ে বর্তমানে গ্রুপটি কার্যত ব্যবসা সংকোচনের পথে হাঁটছে। সবশেষ চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের ১১টি বড় শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি হারানোর ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশ থেকে কি ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এস আলম গ্রুপ? আর এর নেপথ্যে আসল কারণ কী? ব্যাংক থেকেই উত্থান, ব্যাংক সংকটেই পতনের শুরু এক সময় এস আলম গ্রুপের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ছিল দেশের একাধিক ব্যাংকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ; ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক; সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক; ইউনিয়ন ব্যাংক; গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক; আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ব্যবসায়ী পরিবারের এতগুলো ব্যাংকের ওপর প্রভাব প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এস আলম গ্রুপের দ্রুত সম্প্রসারণের মূল ভিত্তি ছিল ব্যাংকিং খাতের ওপর তাদের প্রভাব। আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে দেশের একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে—গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ হয়েছে, যার বড় অংশই বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে সেই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এস আলম গ্রুপের শিল্প কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সংকোচনের বিষয়টি মূলত চৌর্যবৃত্তি-নির্ভর অলিগার্কের ব্যবসায়িক কৌশল ছাড়া কিছুই নয়। এই গ্রুপ বা এই ধরনের অলিগার্করা বাস্তবে কোনও সংকটে পড়ে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে সাময়িক কৌশলগত বিরতিতে যেতে বাধ্য হওয়া ছাড়া গ্রুপটি প্রকৃত কোনও সংকটে পড়েনি। ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে জালিয়াতি, অর্থপাচার ও লুটপাটে জর্জরিত ব্যাংক গুলোর ক্ষেত্রে যা ইতোমধ্যে ঘটেছে ও সামনে আরও ঘটতে পারে তাতে আর যাই হোক, এটুকু পরিষ্কার যে চোরতন্ত্রের ভিত্তিমূলে শেকড়ের নেটওয়ার্ক যেমন পরাক্রমশালী ও টেকসই, তেমনি রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক-প্রাতিষ্ঠানিক সহ সার্বিক রাষ্ট্রকাঠামোতে এমন অলিগার্কদের অংশীদার, সহায়ক ও সুরক্ষাকারীও চিরস্থায়ী।’ তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও টেকসই, যার সাময়িক ব্যাকসিট থেকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসা ‘রিলে রেইসের’ মতো শুধু পালাবদলের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, কলকারখানা বন্ধ বা ব্যবসা সংকোচনের মুখোশে যা ঘটানো হচ্ছে তা মূলত পুরনো রূপে সাম্রাজ্য পুনর্বিস্তারের কৌশল। যার মাধ্যমে আরো যত লুটপাট ও পাচারের সুযোগ বাকি আছে তা আদায়ে শিল্পকারখানাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন যতটুকুসম্ভব নীতি সহায়তা, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আদায় করা, যেমনটি ব্যাংক খাতে মোটামুটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। কীভাবে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক? অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়। পরে নিজেদের অনুগত ব্যক্তি ও স্বজনদের পরিচালনা পর্ষদে বসিয়ে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে এতগুলো ব্যাংকের ওপর একটি পরিবারের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'এস গ্রুপ' নামে উল্লেখ করা একটি কেস স্টাডিতে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে গ্রুপের সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নামে। আর প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অবশিষ্ট অর্থ অন্যান্য পদ্ধতিতে বিতরণ হয়েছে। বিপরীতে জামানতের বাজারমূল্য ছিল মাত্র প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের তুলনায় জামানতের এই বিশাল বৈষম্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার তদারকির দুর্বলতার বড় উদাহরণ। অর্থপাচারের অভিযোগ বিএফআইইউর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট ও হুন্ডিসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দেশ-বিদেশে অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। চব্বিশের পর পাল্টে যায় পুরো চিত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়; আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়; নতুন ঋণ ও বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরে বিধিনিষেধ আসে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। ফলে ব্যাংকভিত্তিক আর্থিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ১১টি কারখানা বন্ধ, হাজারো শ্রমিক বেকার গ্রুপটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হয়ে যাওয়ায় নতুন এলসি খুলে কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। ইস্পাত, চিনি, ভোজ্যতেল, সিমেন্টসহ অধিকাংশ শিল্প কাঁচামালনির্ভর হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হতে থাকে। ধীরে ধীরে উৎপাদন কমিয়ে শেষ পর্যন্ত একের পর এক কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবশেষ চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, এস আলম রিফাইন্ড সুগার; এস আলম স্টিল; এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস; ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস; চেমন ইস্পাত; গ্যালকো স্টিল; এস আলম সিমেন্ট; এস আলম ভেজিটেবল অয়েল এবং এস আলম ব্যাগসহ অন্যান্য শিল্প ইউনিট। এসব প্রতিষ্ঠানে আগে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অধিকাংশই ইতোমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এস আলম গ্রুপের সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার; সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান; ব্যাংকের আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার; ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা; সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘এস আলম গ্রুপের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, ব্যাংকনির্ভর অস্বচ্ছ অর্থায়ন, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ শেষ পর্যন্ত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘কোনও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যখন স্বাভাবিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার বাইরে বিশেষ সুবিধার ওপর নির্ভর করে বড় হয়, তখন সেই সুবিধার অবসান ঘটলেই পুরো ব্যবসায়িক কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বর্তমানে এস আলম গ্রুপের কারখানা বন্ধ হওয়া, উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়া এবং শ্রমিক ছাঁটাই সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।’ মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের আমানতকারী এবং সামগ্রিক অর্থনীতি। তাই শুধু আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা এবং আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’ তার মতে, ‘এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহি, করপোরেট সুশাসন, ঋণ অনুমোদনে স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।’ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে কী? বিশ্লেষকদের মতে, এস আলম গ্রুপের বর্তমান সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে— ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রণ হারানো; আদালত ও তদন্ত সংস্থার আইনি পদক্ষেপ; ঋণ ও অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া; এলসি খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানিতে অচলাবস্থা; তীব্র তারল্য সংকট; বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ পরিচালকদের অনুপস্থিতি; শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বহনে অক্ষমতা এবং ব্যবসায়িক আস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া। সামনে কী? অর্থনীতিবিদদের মতে, এস আলম গ্রুপের ঘটনা শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ। তাদের মতে, শুধু একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা, শক্তিশালী তদারকি, পরিচালকদের জবাবদিহি, ঋণ অনুমোদনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকট ফিরে আসতে পারে। এস আলম গ্রুপের শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া তাই কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সংকোচনের ঘটনা নয়; এটি দেশের ব্যাংকিং ও করপোরেট শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতারও প্রতিফলন। আগামী দিনে তদন্ত, বিচারিক প্রক্রিয়া, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংক সংস্কারের অগ্রগতি নির্ধারণ করবে—এই অধ্যায় কেবল একটি গোষ্ঠীর পতনের গল্প হয়ে থাকবে, নাকি বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে। এ প্রসঙ্গে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও দেওয়া যাচ্ছিল না। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কারখানা বন্ধ হয়ে যাক। এজন্য আমাদের প্রায় ১১টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর কিছু বলার নেই।’ এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি কারখানার মধ্যে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৫০০ জন, আর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় ২০০ জন। অন্য কারখানায় সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন। সবগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
