ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ জুলাই ২০২৬ ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
আসছে সুপার এল নিনো: অস্বাভাবিক গরম মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
সায়ীদ আবদুল মালিক
প্রকাশ: Saturday, 25 July, 2026, 11:43 AM

আসছে সুপার এল নিনো: অস্বাভাবিক গরম মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

আসছে সুপার এল নিনো: অস্বাভাবিক গরম মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যভাগ থেকে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য, তাপপ্রবাহ, খরা, কৃষি ক্ষতি ও বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, যার প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয় এবং বৃষ্টিপাত কমে যায়। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল নিনোর বছরে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যায়, যা শিল্প ও নির্মাণ খাতে উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। গ্রীষ্মকালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ফ্যানের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়লে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হিটস্ট্রোক, পানিবাহিত রোগ ও তাপজনিত মৃত্যুর হারও বাড়ে। বিশেষ করে টিনের ঘরে বসবাসকারী নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়বহুল প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় ও কম খরচের নানা সমাধান রয়েছে। প্রতিফলিত সাদা রং ব্যবহার করে ছাদের তাপমাত্রা কমানো, টারবাইন ভেন্টিলেটর স্থাপন, বাঁশ বা খড়ের তাপ-অন্তরক ব্যবহার, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং মাটির নিচের তুলনামূলক শীতল তাপমাত্রা কাজে লাগিয়ে ঘর নির্মাণের মতো পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

নগর এলাকায় সবুজ করিডর, জলাধার সংরক্ষণ ও গাছপালা বৃদ্ধি ‘নগর তাপ দ্বীপ’ প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনে নগর সবুজায়নকে তাপমাত্রা কমানোর কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে তাপ ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, হিট অ্যাকশন প্ল্যান এবং শ্রমিকদের জন্য উচ্চ তাপমাত্রায় বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। ভারতের আহমেদাবাদসহ বিভিন্ন শহরে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাপজনিত মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন নীতিতে এতদিন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতায় তাপপ্রবাহও বড় ধরনের দুর্যোগে পরিণত হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎনির্ভর শীতলীকরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয়, পরিবেশবান্ধব ও শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

তাদের মতে, আগাম প্রস্তুতি, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং স্থানীয় উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ শুধু সম্ভাব্য তাপপ্রবাহের ক্ষতি কমাতেই সক্ষম হবে না, বরং জলবায়ু অভিযোজনের একটি কার্যকর মডেল হিসেবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদাহরণ তৈরি করতে পারবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status