প্রকাশ: Thursday, 4 April, 2019, 6:13 PM সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 4 April, 2019, 6:32 PM
১৮ তলার অনুমতি নিয়ে ২৮ তলা আহমেদ টাওয়ার
বনানীর ১৭ নম্বর রোডে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এফ আর টাওয়ারের পাশেই আহমেদ টাওয়ার। ১৮ তলার অনুমতি নিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে ২৮ তলা। ভবনে নেই কোনও বহির্গমন পথ (এক্সিট ওয়ে)। ভবনের নিচতলা থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত তিনটি লিফট থাকলেও বাকি ৬টি ফ্লোরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনের নকশার খোঁজে মালিকের অফিসে গিয়েও নকশার কাগজ মিলছে না। মালিক অফিসেই আসছেন না। রাজধানীতে নকশা অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এ তথ্য পেয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অভিযানের চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বনানী এলাকায় তিনটি ভবন পরিদর্শন করে দুটি ভবনে নকশাবহির্ভূত ত্রুটি পেয়েছে সংস্থাটি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৭ নম্বর রোডে বিটিআই পার্ক প্লাজা, আহমেদ টাওয়ার ও এসএমসি ভবন পরিদর্শন করে রাজউকের অঞ্চল-৪ এর একটি টিম। প্রথম দুটি ভবনে নকশার ত্রুটি পাওয়া গেছে। বিটিআই পার্ক প্লাজা ভবনটি ১২ তলার অনুমোদন থাকলেও ১৩ তলা করা হয়েছে। ভবনে কোনও এক্সিট ওয়ে নেই। এদিকে আহমেদ টাওয়ার ভবনের নকশার খোঁজে মালিকের অফিসে গিয়েও নকশার কাগজ পাননি রাজউক কর্মকর্তারা। ভবনের সিকিউরিটি গার্ডরা জানিয়েছেন, গত কয়েকটি ধরে ভবন মালিক অফিসে আসছেন না। এ বিষয়ে রাজউকের পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, এই এলাকায় যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ভবন মালিক ওপরে অবৈধভাবে ফ্লোর বাড়িয়েছে। আমরা ভবনগুলো পরিদর্শনে যাচ্ছি। তাদের নকশা দেখে কী কী অমিল রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করছি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এফআর টাওয়ারের পাশেই আহমেদ টাওয়ার। ১৮ তলার অনুমতি নিয়ে ভবনটিতে ২৮ তলা করা হয়েছে। ভবনের একটি সিঁড়ি পথ ও তিনটি লিফট রয়েছে। তবে কোনও বহির্গমন পথ (এক্সিট ওয়ে) নেই। ভবনের নিচতলা থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত তিনটি লিফট থাকলেও বাকি ৬টি ফ্লোরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। তবে এই ছয়টি ফ্লোর এখনও নির্মাণাধীন রয়েছে। এদিকে ২৩ তলা থেকে বাকি ৬ তলার জন্য আলাদা একটি লিফট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। সরেজমিনে দেখা যায়। আহমেদ টাওয়ারের ২৩ তলার দেয়ালে একটি নোটিশ লাগানো। সেখানে একটি নকশা ও নতুন লিফট তৈরির বিষয়ে বলা হয়েছে। বর্ধিত ২৩ তলায় নির্মাণাধীন লিফট রাজউকের পরিদর্শন টিম পুরো ভবন ঘুরে দেখেন এবং ভবন মালিকের অফিসে গিয়ে দেখা করতে চান। কিন্তু ভবনের সিকিউরিটি গার্ডরা তাদের জানায়, গত কয়েকটি ধরে ভবন মালিক অফিসে আসেননি। ঝুঁকিপূর্ণ আহমেদ টাওয়ার পরিদর্শন শেষে রাজউকের সহকারী অথরাইজড অফিসার আলী আযম মিয়া বলেন, ‘এই ভবনটি ২৮ তলা পর্যন্ত করা হয়েছে। আমরা এই ভবনের নকশার কপি এখনও পাইনি। এজন্য আহমেদ টাওয়ারে কয়েকবার এসেছি। কিন্তু যখনই আমরা নকশার জন্য আসি, তখনই মালিক থাকে না। সিকিউরিটি গার্ডরা বলে ভবনের মালিক নেই। ভবন কর্তৃপক্ষের নকশা আমরা পাইনি। সেটি পেলে বলা যাবে এই ভবনটি মূলত কয়তলার অনুমোতি রয়েছে। তিনি বলেন, এর আগেও এই ভবনটিতে এসে দেখেছি নির্মাণ কাজ চলছে। তখন আমরা সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আবারও তারা কাজ শুরু করেছে। আজও বন্ধ করতে বলেছি। এসব বিষয় আমরা রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবো। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুয়ায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো। এর আগে বনানীর ১৭ নম্বর রোডের ৩১ নস্বর বিটিআই পার্ক প্লাজা ভবন পরিদর্শন করে রাজউকের পরিদর্শন টিম। ভবনটি ১২ তলার অনুমোদন থাকলেও ১৩ তলা করা হয়েছে। ভবনে কোনও এক্সিট ওয়ে নেই। এছাড়া ভবনটি আবাসিক বলে নির্মাণ করা হলেও সেটি বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। এই ভবনটির বিষয়ে রাজউকের পরিচালক মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, রাজউকের নকশা অনুযায়ী ভবনটি ১২ তলার অনুমোদন পাওয়া। আবাসিক লাইসেন্স পেলেও ভবনটি বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওপরে নকশাবহির্ভূত একটি ফ্লোর করা হয়েছে। বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এসএমসি ভবন পরিদর্শনের পর রাজউকের কর্মকর্তারা জানায়, এই ভবনের নকশা আমরা দেখেছি। সেখানে বড় কোনও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নকশা অনুযায়ী ছোট ছোট কিছু ত্রুটি রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে ভবন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।