মেয়েকে নির্দয়ভাবে মারধর করেছে তারই স্কুলের এক শিক্ষক। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দারস্ত হন বাবা। জমা দেন অভিযোগপত্র। কিন্তু এর ফল ভালো হয়নি। উল্টো মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এমন ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সড়াতলা গ্রামে।
জানা গেছে, মারধরের শিকার সুমাইয়া নামের ওই শিশু সড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা আয়নাল হোসেন পেশায় একজন কৃষক।
আয়নাল হোসেনের অভিযোগ, তার মেয়ে সুমাইয়া গত সোমবার ক্লাসে পড়া না পারায় স্কুলের সহকারী শিক্ষক আবু সুফিয়ান তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করেন। এ সময় মারধর করা হয় ক্লাসের অপর দুই শিক্ষার্থী আজিজুল ও মিলনকে। পরে খবর পেয়ে সুমাইয়াকে আহত অবস্থায় স্কুল থেকে নিয়ে যান তিনি।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার শিক্ষক আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন আয়নাল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ানকে মঙ্গলবার কারণ দর্শানোর একটি চিঠি পাঠান।
আয়নালের অভিযোগ, কারণ দর্শানো চিঠি পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সুফিয়ান ক্ষুব্ধ হন। তিনি তার স্বজন কয়ড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম ও মজির হোসেনকে একটি মীমাংসা সভার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ কারণে বৃহস্পতিবার সকালে সড়াতলা গ্রামের মওলানা হযরত আলীর বাড়িতে একটি সভা ডাকা হয়। ওই সভায় উপস্থিত না হলে সেলিম ও মজির হোসেনের লোকজন তাকে রাস্তায় পেয়ে বেধড়ক মারপিট করেন।
পরে ঘটনাটি জানতে পেরে কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীনের সহযোগিতায় আহত অবস্থায় আয়নালকে উদ্ধার করে তার (আয়নাল) বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় আহত আয়নাল উল্লাপাড়া থানায় একটি জিডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে কথিত সেলিম ও মজির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আয়নাল হোসেনকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
কয়ড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আয়নাল হোসেনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শিশু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মারধর বা ভয়ভীতি প্রদর্শন সরকারিভাবে একেবারেই নিষিদ্ধ। কথিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় অভিভাবককে মারধরের ঘটনা তারা অবহিত হয়েছেন। তদন্ত করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পেটানো শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।