ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজে ফের পুলিশের অভিযান, আটক ১৬
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 20 June, 2026, 10:19 AM
ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজে ফের পুলিশের অভিযান, আটক ১৬
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন জিরানী বাজার এলাকার ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজে আবারও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পরিচালিত এ অভিযানে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গেস্ট হাউজটিকে কেন্দ্র করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে আসছে। এর আগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ ২০২৬ সালে একই প্রতিষ্ঠানে কাশিমপুর থানা পুলিশের অভিযানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৪২ জনকে আটক করা হয়।
ওই ঘটনার পর গেস্ট হাউজটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও পরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলে এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার অভিযান পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় একই ধরনের অভিযোগ পুনরায় সামনে আসছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “প্রতিবার অভিযান হয়, মানুষ আটক হয়; কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে কেন এসব কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না?”
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, “এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করুক।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, পরিচালনা ব্যবস্থা এবং মালিকপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় একই অভিযোগ বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিতর্কিত এসব কার্যক্রম বন্ধ করে এলাকার স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।