ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 7 June, 2026, 12:21 PM

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

অভিষেকের পর থেকেই নেপোটিজম বিতর্ক, সমালোচনা ও প্রত্যাশার ভার—সবকিছুর সঙ্গেই তাঁকে পথ চলতে হয়েছে। কিন্তু এসবকে কখনোই বোঝা হিসেবে দেখেন না অনন্যা পাণ্ডে। বরং দর্শকের প্রত্যাশাকেই অনুপ্রেরণা মনে করেন এই বলিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি ফিল্ম ফেয়ার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার, সাফল্য, প্রেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রলিং ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

সর্বশেষ ছবি চাঁদ মেরা দিল অনন্যার কাছে বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। তাঁর মতে, ছবিটি এমন এক আবেগময় সম্পর্কের গল্প, যা তাঁকে নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি ছবির সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। চাঁদ মেরা দিল সে যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না বলেই অনন্যা এমন সব গল্প বেছে নিতে ভালোবাসেন, যা তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায়। 

শুটিংয়ের পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি শেখার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। অভিনেত্রী জানান, এখনো নিজেকে একজন শিক্ষার্থী বলেই মনে করেন তিনি এবং প্রতিটি সেট তাঁকে নতুন কিছু শেখায়। দর্শকের ভালোবাসা পেলে সেটিকে তিনি কেবল নিজের অর্জন হিসেবে দেখেন না; বরং মনে করেন, পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হয় একটি ভালো ছবি।

নেপোটিজম প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে অনন্যা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা হয়ে গেছে যে নতুন করে বলার খুব বেশি কিছু নেই। নিজেকে আমি ভাগ্যবতী মনে করি এবং বাবার মেয়ে হিসেবে গর্ব বোধ করি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছু সুযোগ-সুবিধা তাঁর ছিল, কিন্তু সে সুযোগকে কাজে লাগানোর দায়িত্বও ছিল তাঁর নিজের।

নিজের প্রথম ছবি স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ২-এর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনন্যা জানান, তখন চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রায় আমার কোনো ধারণা ছিল না। একটি দৃশ্য বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণ করতে হয়, সেটাও জানতাম না। সে সময় সহ-অভিনেতা টাইগার শ্রফ ও পরিচালক পুনীত মালহোত্রার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর কথায়, প্রথম ছবিতে সত্যিকার অর্থেই তিনি একজন ছাত্রীর মতো কাজ করেছিলেন।

ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা, অনিশ্চয়তা ও আত্মসন্দেহও এসেছে বলে জানান অনন্যা। তবে আত্মসন্দেহকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখেন না। বরং মনে করেন, সামান্য অনিশ্চয়তা শিল্পীকে আরও ভালো কাজ করার তাগিদ দেয়। প্রতিটি শুটিং, বিজ্ঞাপন বা প্রচারণার আগে আমার নার্ভাস লাগে। কিন্তু সেটিকে ইতিবাচক লক্ষণ বলে মনে করি, কারণ তা আমাকে নতুন কিছু করার জন্য প্রস্তুত করে, বলেন এই বিটাউন নায়িকা।

সাফল্যের সংজ্ঞাও সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে অনন্যার কাছে। একসময় বড় পর্দায় নিজেকে দেখাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। এখন তিনি এমন কাজ করতে চান, যা বহু বছর পরও দর্শকের মনে থাকবে। তাঁর ইচ্ছা, এমন চরিত্রে অভিনয় করা, যেগুলোর সঙ্গে দর্শক দীর্ঘদিন সম্পর্ক অনুভব করবেন। ‘আমি চাই মানুষ ছবি শেষ হওয়ার পরও চরিত্রগুলোকে মনে রাখুক,’ বলেন তিনি।

অনন্যার অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উঠে আসে গেহরাইয়া র নাম। পরিচালক শকুন বাত্রা প্রথম তাঁর মধ্যে অন্য রকম সম্ভাবনা দেখেছিলেন বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০-২১ বছর।  চরিত্রের অনেক আবেগই ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করার সুযোগ হয়নি, কিন্তু পরিচালকের বিশ্বাস আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। যদিও তাঁকে বেশি দেখা যায় শহুরে ও সমসাময়িক গল্পে, অনন্যার কথায়, এটি কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত নয়। 

খো গয়ে হাম কাহাঁ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি নিজেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। কারণ, আমার মনে হয়েছিল যে এ প্রজন্মের উদ্বেগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ও সম্পর্কের জটিলতাকে খুব কম চলচ্চিত্রেই বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একইভাবে ‘সিটিআরএল’-এ কাজ করার পেছনেও ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সমসাময়িক বিষয়কে দর্শকের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা।

শরীর, সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়েও অকপট অনন্যা, নিজের চেহারা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রায় সব তরুণীর জীবনেই থাকে। তবে এখন আমি শরীরচর্চাকে সৌন্দর্যের মানদণ্ডে পৌঁছানোর উপায় হিসেবে নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার মাধ্যম হিসেবে দেখি।

ব্যক্তিগত জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থনই অনন্যাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়। বই পড়া, সিনেমা দেখা, ভ্রমণ, পোষা কুকুরদের সঙ্গে সময় কাটানো ও ধ্যানচর্চা তাঁকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ধ্যান, প্রার্থনা ও ভক্তিগীতি শোনা আমার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ, বলেন তিনি।

প্রেম সম্পর্কে অনন্যার বিশ্বাস, ‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়। অর্থাৎ ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকাটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি এমন সঙ্গী চাই, যার সামনে আমি সম্পূর্ণ নিজের মতো থাকতে পারব। অন্যদিকে অসম্মান, মিথ্যা বলা এবং সঙ্গীর সাফল্যে খুশি না হতে পারাকে আমি বড় রেড ফ্ল্যাগ হিসেবে দেখি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status