ডেপুটি স্পীকারের সাথে ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 30 April, 2026, 7:18 PM
ডেপুটি স্পীকারের সাথে ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আজ (বুধবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি’র সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পীকার ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে আন্তরিক কুশল বিনিময় করেন। তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং সংসদ অধিবেশন অবলোকনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজ ব্রাহ্মণ পুরোহিত প্রতিনিধিদল এসেছেন। এর আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল, ইমাম প্রতিনিধিদল, হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদল এবং দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য হলো এলাকার সকল পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষ যেন জাতীয় সংসদ সম্পর্কে জানতে পারে।
এ সময় ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের বীরেশ্বর চক্রবর্তী, মিন্টু ভাদুরী, অপরেশ চক্রবর্তী, গৌতম চক্রবর্তী, বিমল চৌধুরী, উৎপল শর্মা, রতন শর্মা, সুজয় শর্মা, মানিক চক্রবর্তী, কেশব লাল চক্রবর্তী, সজয় চক্রবর্তী এবং সমরেশ চক্রবর্তী সংসদ ভবনে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় এবং দুর্গাপুরের সন্তান হিসেবে ডেপুটি স্পীকার নিযুক্ত হওয়ায় তাঁর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাঁরা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবে তাঁরা অনেক সময় অবহেলার শিকার হন। তবে ডেপুটি স্পীকারের সহযোগিতায় দুর্গাপুরের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে তাঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। তাঁরা ডেপুটি স্পীকারকে ‘রাজা’ সম্বোধন করে গীতা পাঠ করেন এবং ঈশ্বরের কাছে তাঁর মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি তাঁকে একটি উত্তরণী উপহার প্রদান করেন এবং পূজামন্ডপ সংস্কার, পুরোহিত ভাতা চালু ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
জবাবে ডেপুটি স্পীকার বলেন, এলাকার মন্দিরের জন্য বরাদ্দ প্রদানে কোনো অবহেলা করা হবে না। ব্রাহ্মণ পুরোহিত সম্প্রদায়ের কল্যাণে যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করা হবে। মসজিদ, মন্দির ও গির্জার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “সবার পরিচয় আমরা মানুষ আমাদের রক্ত সবারই লাল। কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান, কে বৌদ্ধ সবাই আমরা বাংলাদেশি।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় সেবা দলীয়ভাবে দেখা হলেও তিনি ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পড়ালেখা, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।