কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে 'ধর্ম অবমাননা'র অভিযোগে এক পীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও থানায় এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫)। এ ঘটনায় আরও তিন অনুসারী আহত হয়েছেন। তারা হলেন—মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'ঘটনার সময় অনেক লোকের উপস্থিতি থাকায় কারা সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন।'
তিনি বলেন, 'আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করছি। উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।'
নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, 'মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'দাফনের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
এর আগে, গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় 'শামীম বাবার দরবার শরিফ' নামে পরিচিত এক কথিত পীরের আস্তানায় হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম বিকৃত করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীদের মারধরে গুরুতর আহত হন দরবারের প্রধান শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর)। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।