|
পৃথিবী ধ্বংস হতে আর কতক্ষণ, জানাল ডুমসডে ক্লক
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পৃথিবী ধ্বংস হতে আর কতক্ষণ, জানাল ডুমসডে ক্লক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ঘড়িটি ছিল মধ্যরাতের ৮৯ সেকেন্ড আগে। এক বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায় এবার সেটি আরও চার সেকেন্ড এগিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ডুমসডে ক্লক এগিয়ে মধ্যরাতের মাত্র ৮৫ সেকেন্ড আগে স্থির করা হয়েছে। মঙ্গলবার বার্ষিক ঘোষণায় সংগঠনটি জানায়, এটি ডুমসডে ক্লকের ইতিহাসে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থান। এর আগে শুক্রবার প্রাথমিকভাবে ঘড়ির অবস্থান উপস্থাপন করা হয় এবং মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা, জলবায়ু সংকট, জৈবপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সব মিলিয়ে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছর মানবজাতি কতটা ধ্বংসের কাছাকাছি রয়েছে, তা প্রতীকীভাবে নির্ধারণ করে ডুমসডে ক্লক।সংগঠনটি বলেছে, বিশ্বব্যাপী দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এর ফলে ‘জয়ী সবকিছু নেবে’ ধরনের বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, যা বৈশ্বিক ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলোর জড়িত সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গত গ্রীষ্মের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেন। বুলেটিনের বিজ্ঞান ও নিরাপত্তা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল হোলজ বলেন, বিশ্বে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তার ভাষায়, যদি বিশ্ব ‘আমরা বনাম তারা’ ও শূন্য-ফলাফলের পথে এগোয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই হারব। সংগঠনটি জলবায়ু সংকটকেও সমানভাবে দায়ী করেছে। খরা, তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ বন্যার মতো দুর্যোগ বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতি ব্যাহত করার জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়। ১৯৪৭ সালে যাত্রা শুরু করা ডুমসডে ক্লক শীতল যুদ্ধের শেষে একসময় মধ্যরাতের ১৭ মিনিট আগে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মিনিট নয়, এখন সেকেন্ড ধরে হিসাব করা হচ্ছে মানবজাতির টিকে থাকার সময়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ঘড়ির কাঁটা পেছনে ফেরানো এখনও সম্ভব। তবে তার জন্য বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব পরিহার করে পারমাণবিক ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
