|
ফ্যাসিস্টদের রেখে যাওয়া হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় ফেনীর সাবেক ছাত্রদল নেতা!
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ফ্যাসিস্টদের রেখে যাওয়া হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় ফেনীর সাবেক ছাত্রদল নেতা! স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী ওরফে নিজাম হাজারী-র বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ পান সালাউদ্দিন মামুন। তিনি সাবেক পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আলাউদ্দিনের পিএস খোকনের ছোট ভাই। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে ফেনী কার্যত সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সন্ত্রাসী জনপদের গডফাদার ছিল নিজাম হাজারী ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী আলাউদ্দিন। এই সময়েই সালাউদ্দিন মামুন ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের শক্তিশালী সহযোগীতে পরিণত হন। প্রায় ৯ বছর আগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ অপরাধ সিন্ডিকেটের নির্ভরযোগ্য সদস্য। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লুৎফর রহমান খোকন ছিলেন চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। গত ১৫ বছর ধরে খোকনের এই সিন্ডিকেটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন মামুন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি অংশ মিলেমিশে ফেনীতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে সেই নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মামুনের হাতে চলে গেছে। গত ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে নয়জন নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, এই গণহত্যার অন্যতম সশস্ত্র ক্যাডার ছিলেন খোকন। ওই ঘটনায় দায়ের করা আটটি হত্যা মামলায় ২ হাজার ৯৪০ জনকে আসামি করা হলেও রাজনৈতিক কৌশলে খোকনের নাম এখনো মামলার তালিকায় নেই। বরং আওয়ামী-বিএনপির যোগসাজশে ফেনীর ‘রামরাজ্য’ কায়েমে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন সালাউদ্দিন মামুন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনীতে আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশেষ ব্যক্তিদের হাতে থাকা ১০০টি অস্ত্রের মধ্যে ৯৩টি জমা পড়লেও এখনো সাতটি অস্ত্র অবৈধভাবে রয়েছে। এর মধ্যে নিজাম হাজারী ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে তিনটি এবং খোকনের কাছে রয়েছে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট খোকনের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার কাজটি করেন সালাউদ্দিন মামুন, যার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানের গুরুত্বপূর্ণ রুট। একসময় যুবলীগ নেতা জিয়াউদ্দিন মিস্টারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সরকার পতনের পর সেই রুট চলে গেছে সালাউদ্দিন মামুনের দখলে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদারদের হয়ে বিল আদায় ও কাজ সম্পন্নের ঢাল হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে—ফ্যাসিস্টদের পতনের পরও ফেনীতে কেন একই অপরাধচক্র বহাল তবিয়তে সক্রিয়? প্রশাসন কি আদৌ এই ভয়ংকর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি ফেনী আবারও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে? এ বিষয়ে সালাউদ্দিন মামুনের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
