|
টেকনাফে অপহরণ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
রফিক মাহমুদ, উখিয়া
|
![]() টেকনাফে অপহরণ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) বিকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর এলাকায় স্থানীয় লোকজন প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে মেজর সিনহা চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে ইতিমধ্যে অপহৃত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারের জোরালো দাবি জানানো হয়। গত রবিবার সন্ধ্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পূর্বপাড়ায় খেলার সময় ছয় শিশু-কিশোরকে অপহরণ করে পাহাড়কেন্দ্রিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে দুজন কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও চার জন এখনও জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে একই এলাকায় আরও কয়েকজন অপহরণের শিকার হন। স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৬৪ জন অপহৃত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন; এদের বেশিরভাগই মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। তবে জেলা পুলিশ জানায়, গত ২১ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৭২ জন অপহৃত হয়েছেন। অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এলেও বর্তমানে কতজন এখনও জিম্মি—সে তথ্য তাদের কাছে নেই। সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। তিনি বলেন, “অপহরণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি যৌক্তিক। আমরা এই দাবিকে সমর্থন করি। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। তবে সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ানোর অনুরোধ করছি।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফ (ডুসাউট) সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বলেন, “আমরা আর কোনো অপহরণ দেখতে চাই না। আমাদের অপহৃত ভাইদের ফিরিয়ে দিন। পাহাড়ি সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকি স্থাপনসহ বিশেষ অভিযান প্রয়োজন।” শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টেকনাফ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম এ মঞ্জুর বলেন, “বাহারছড়া পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে প্রতিদিন পর্যটক আসতেন। এখন অপহরণের ভয়ে পর্যটকেরা আসতে সাহস পাচ্ছেন না। নারী-শিশুরাও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।” বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, “৫০ হাজার মানুষের এই এলাকায় সন্ত্রাসী সর্বোচ্চ ১০০ জন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে তারা কিছুই করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান চালালে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
