|
দূরপাল্লার বাস বন্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা দূর্ভোগে
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() দূরপাল্লার বাস বন্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা দূর্ভোগে শ্রমিকরা জানান, বর্তমান দূর্মূল্যের বাজারে সংসার চালাতে হিমসিম খেয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবীতে চলতি মাসের ৮/৯ তারিখে শ্রমিকরা বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী ও নাটোরের বাস মালিকরা শ্রমিকদের ওই সকল বিষয়ে একটা সমাধানে আসার কথা বলে ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার ঢাকায় বসার কথা বলেন। এতে অবরোধ বন্ধ করে আবারো বাস চলাচলে মনোনিবেশ করেন শ্রমিকরা। কিন্তু পরবর্তীতে শ্রমিকদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে সমাধানের আশ^াস দিয়ে আবারো সময় বৃদ্ধি করে ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার নতুন দিন ধার্য করেন মালিক পক্ষ। কিন্তু এতে চালক-সুপারভাইজার-চালকের সহকারীরা মালিকদের ওপর আস্থা আনতে না পেরে গত ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল থেকে আবারো বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। শ্রমিক পক্ষ আরো জানান, যাত্রীদের কথা ভেবে সংকট নিরসনে পরের দিন অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঢাকায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শ্রমিকদের (চালক-সুপারভাইজার-চালকের সহকারী) দাবী মেনে নেয়া হয়। যা আজ শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে মালিকপক্ষ বাড়তি বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে রাতের যাত্রায় নির্ভরশীল হাজারও যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। শুক্রবারে যাদের ঢাকা যাওয়ার টিকিট কাটা ছিল তাদের রাতের বেলায় কাউন্টার থেকে ফোন করে জানানো হয় কোনো বাস চলবে না। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকা কোচ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, মালিকদের সাথে দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে বাড়তি বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বাস্তবায়নের আগেই কোনো ঘোষণা ছাড়াই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে তাদের বাস চলাচল বন্ধ করেছেন মালিকরা। এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তিতে পড়েছেন তা বলার কথা নয়। মালিকপক্ষ যাত্রীদের সাথে ছিনিমিনি খেলছেন, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী বাসের কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক যাত্রীকে বাসস্ট্যান্ডে এসে বাড়িতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ হঠাৎ হঠাৎ বাস বন্ধ করে দেয়া আমাদের জন্য একটি অশনি সংকেত। আমরা পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে মা-বাবার কাছে যাবো, টিকিটও ক্রয় করেছি বেশ কয়েকদিন আগে। কিন্তু এখন যাবার সময় বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস চলাচল বন্ধ। ঘোষণাবিহীনভাবে বাস চলাচল বন্ধ মানে যাত্রীদের সাথে তামাশা করা। তবে যেভাবেই হোক আমাকে পরিবার নিয়ে যেতেই হবে। এতে বাড়তি টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হবে। তবে মালিক পক্ষের অভিযোগ, শ্রমিকরা দূরপাল্লার বাস যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী তোলেন। এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের কাছ থেকে। তারপরেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি মেনে নেয়ার পরও তারা অযৌক্তিক নতুন দাবি সামনে আনছেন যা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তবে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, গ্রামীন ট্রাভেলস এর মালিক পক্ষ বাস বন্ধ রাখলেও শুধুমাত্র একতা পরিবহন তাদের বাস চলাচল স্বাভাবিক রেখেছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
