ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারণা, প্রশাসন নির্বিকার
মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: Monday, 11 August, 2025, 6:09 PM

ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারণা,  প্রশাসন নির্বিকার

ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারণা, প্রশাসন নির্বিকার

ময়মনসিংহে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতারমতো গড়ে উঠছে অবৈধভাবে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট  হাসপাতাল। অনুমোদনহীন এসব ক্লিনিকে লাইসেন্স  নবায়ন হচ্ছে না বছরের পর বছর। হাসপাতাল পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে ক্ষমতাবলে অনেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণীর অসাধু চিকিৎসকদের কমিশনের ফাঁদে ফেলে রোগীকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাই বেশি প্রতারিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রায় দুই কোটি মানুষের উন্নত চিকিৎসার ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়া গাজীপুর ও সুনামগঞ্জের কিছু মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসে। 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি প্রায় তিন শতাধিক বৈধ ও অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যার সবই নগরীর ব্যস্ততম চরপাড়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ও আশেপাশে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত গড়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশ বিশেষ করে নগরীর চরপাড়া, নয়াপাড়া, কপিখেত, মাসকান্দা, বাঘমারা, ভাটিকাশর, কৃষ্টপুর, পাটগুদাম, রামকৃষ্ণমিশন রোড, সাহেব আলী রোড, চামড়া গুদাম ও কালীবাড়ী রোডসহ বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজি ল্যাব। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায়ও রয়েছে অসংখ্য ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

ময়মনসিংহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, নগরীতে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। তবে বিভিন্ন অলিতে গলিতে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে নিয়মিত কোন চিকিৎসক ছাড়া অন্তত আরোও দুই শতাধিক ক্লিনিক রয়েছে। 

সরকারি তালিকায় যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে তাদের বেশির ভাগই বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন করছে না। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। হাসপাতাল পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে অনেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেছেন। 

এছাড়া এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ল্যাবে নেই কোনো ডিপ্লোমাধারী টেকনিশিয়ান, নার্স ও প্রশিক্ষিত আয়া। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক দেখানো হয় কেবল খাতায়, আয়াদের নার্সের পোশাক পরিয়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। অনেক ল্যাবে ভুয়া রিপোর্ট দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 

একজন চিকিৎসক বা পরীক্ষকের প্যাড ও সিল ব্যবহার করে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। বাস্তবে একজন পরীক্ষকের পক্ষে এত ল্যাবে গিয়ে এসব রিপোর্ট করা সম্ভব নয়।

নির্ভরযোগ্য সুত্র বলছে, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকরা সিন্ডিকেট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় সেবার নামে খুলে বসেছে যেন কসাইখানা, অন্যতম সহযোগী হিসেবে সমস্যা মোকাবিলায় ভুমিকা পালন করছে তথাকথিত কিছু সাংবাদিক, পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকার অভিযোগ অনেক পুরাতন।

অভিযোগ রয়েছে,  হাসপাতালে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের  ভুলিয়ে ভালিয়ে দালালরা  নিয়ে আসে এসকল অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে, তাদের অবহেলায় রোগীর কোন সমস্যা হলেই ফুটে উঠে হিংস্র চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। 

একদিকে স্থানীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ফেলা হয় হুমকির মুখে অন্য দিকে অপরাধ আড়াল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালের পক্ষে সাফাই গেয়ে শুরু হয় রোগীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, পাশাপাশি একই সুরে চলে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের নামে সাফাইয়ের জয়গান। 

প্রতিবাদী কেও আওয়াজ তুললে চাঁদাবাজির তকমা লাগিয়ে করা হয় থানায় অভিযোগ। তদন্তের নামে শুরু হয় পুলিশের তালবাহানা। আবার কখনো উল্টে যায় গনেশ, তাদের কূটকৌশলে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহীতার অবস্থান শক্তিশালী হলে চেঁপে বসে ক্লিনিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর, হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের অর্থ। 

দরবেশের আসনে সিভিল সার্জন, টাকা দিলেই মিলে সস্তা আশির্বাদ। অফিসের পিয়নরাও হয় আঙুল ফুলে কলাগাছ। 

সম্প্রতি নগরীর হেলথ কেয়ার (প্রাঃ) হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ প্রদান করেছে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান। 

ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হেলথ কেয়ার (প্রাঃ) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় নন্দী সাংবাদিকদের নামে চাঁদাদাবীর করেছে উল্লেখ করে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করে।

অপরদিকে নবজাতকের পিতা পুলিশের এসআই লুৎফর রহমান থানায় অভিযোগ করেন হেলথ্ কেয়ারের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তিনজনকে আটক করে গভীর রাতে সমঝোতা করে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এসময় ক্লিনিক মালিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুনসুর আলম চন্দনসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালের অর্ধশতাধিক কর্তৃপক্ষ থানায় উপস্থিত ছিলেন। 

তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগে কোন ভুমিকা রাখেনি পুলিশ। এনিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ৬/৭ জনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিকল্পিত মানববন্ধন।

প্রচার আছে স্ত্রীকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে খুশি করতে এবং মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য করতে এসআই লুৎফর মৃত নবজাতক নিয়ে এ নাটক সাজিয়ে পুলিশ, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শতাধিক মানুষকে হয়রানি করেছে। এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের ফলে পুলিশ অফিসার লুৎফর রহমানকে ধিক্কার জানিয়েছে সচেতন মহল। 

তবে পুলিশ প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা এসআই লুৎফরকে ক্ষতিপুরনের শর্তে সমঝোতা করে আটককৃতদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খায়রুল আলম রফিকের বরাত দিয়ে। 

সাংবাদিকদের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও হেলথ্ কেয়ার (প্রাঃ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন দুই পক্ষের অভিযোগ ছিল এটা তারা আপোষ করেছে। 

তবে চাঁদাদাবীর অভিযুক্ত দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম রেজা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন আমরা কোন আপোষ করিনি, এখন পর্যন্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করেনি হেলথ্ কেয়ার (প্রাঃ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটা খুবই দুঃখজনক।

হেলথ্ কেয়ার (প্রাঃ) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রঞ্জন নন্দী কাছে চাঁদাদাবীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আসলে ঐদিনের ঘটনায় মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি, আমি অভিযোগ করতে চাইনি সংগঠন এবং ব্যবসায়ী পাটনারদের চাপে পড়ে করতে হয়েছে। জাফর ভাই বিষয়টি হ্যান্ডেলিং করতেছেত তার সাথে কথা বললে ভালো হয়।

ব্যাঙের ছাতারমতো গজিয়ে উঠা ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাঃ হাসপাতালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের সংখ্যা জানতে চেয়ে উপ পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এই মুহুর্তে সঠিক সংখ্যা বলতে পারবনা তবে আনুমানিক বলতে পারব বলে কিছু সময় মুঠোফোনে লাইনে রেখে আনুমানিক সংখ্যার তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়ে বলেন আপনি আগামীকাল অফিসে আসেন।

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি একটু অসুস্থ এবিষয়ে পরে কথা বলছি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status