|
শ্যামনগরে ধান চারা চুরি নিয়ে প্রতিবাদ করায় কৃষককে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত ২জন আটক
মোঃ আলফাত হোসেন, সাতক্ষীরা
|
![]() শ্যামনগরে ধান চারা চুরি নিয়ে প্রতিবাদ করায় কৃষককে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত ২জন আটক ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টা ১০ মিনিটে উত্তর হাজীপুর রোডের সাধুর চা দোকানের সামনে। আহত কৃষকের নাম রবিউল ইসলাম (৪০), পিতা আব্দুল বারী গাজী। তিনি ও শফিকুল শেখ (৪৪), পিতা মৃত আরশাদ শেখ দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজে যুক্ত। সম্প্রতি তারা এক বিঘা জমিতে ধান চাষের জন্য চারা প্রস্তুত করেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, খুব ভোরে আলাউদ্দিন, সাজ্জাদ ও হান্নান নামের তিনজন ব্যক্তি সেই চারা চুরি করে করিম মোড়ল নামের আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে করিম সেই চারা তার জমিতে রোপণ করেন। সকালে চারা না পেয়ে দুই কৃষক খোঁজাখুঁজি শুরু করলে এক ব্যক্তি জানায়, তাদের চারা করিমে জমিতে রোপণ করা হয়েছে এবং তা সরবরাহ করেছে আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি জানতে চাওয়া মাত্রই আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে করিম মোড়ল বলেন,আমি কিছুই জানতাম না। তারা আমার কাছে চারা বিক্রি করেছে, আমি টাকাও দিয়েছি। পরে তারাই আমার জমিতে মজুরি করে সেই চারা রোপণও করেছে। চারা চুরি হয়েছে এই অভিযোগের ব্যাপারে আমি একেবারেই অবগত নই। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন মন্টুর কাছে গেলে তিনি তাদের সন্ধ্যায় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে গেলে আবার আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর তারা হাজীপুর রোডে সাধুর চায়ের দোকানে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক তখনই আলাউদ্দিন গাজীর ছেলে আসাদ আলি (৪০), আসাদের ছেলে রানা (১৮), নুর আলী সরদারের ছেলে হান্নান (৪৩) ও তার ছেলে হাসান (১৫) সেখানে গিয়ে দুই কৃষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে রানা পকেট থেকে ছুরি বের করে রবিউল ইসলামের পিঠে ঢুকিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা রবিউলকে উদ্ধার করে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিউলের স্ত্রী বলেন, আমি স্বামীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে দুই নারী স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলাম। রানা ছুরি হাতে আমাদের সামনে এসে বলে, এই তিনজনকেও শেষ করে দিই।আমরা আতঙ্কে পাশের গলি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই। এলাকার বাসিন্দারা জানান, রানা ও হাসান দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। একাধিক অভিযোগ থাকার পরও তারা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন,আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। এদিকে নতুন করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতেই অভিযান চালিয়ে আসাদের ছেলে রানা (১৮) এবং হান্নানের ছেলে হাসান (১৫) কে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
