ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মুকুলে ভরা লিচুর রাজ্য বিরল, মধুমাসের আগমনি বার্তা
দিপংকর রায়,দিনাজপুর
প্রকাশ: Thursday, 21 March, 2024, 1:58 PM

মুকুলে ভরা লিচুর রাজ্য বিরল, মধুমাসের আগমনি বার্তা

মুকুলে ভরা লিচুর রাজ্য বিরল, মধুমাসের আগমনি বার্তা

উত্তরের জেলা গুলোর মধ্যে বরাবরই আম লিচুতে ভরপুর নাম তার দিনাজপুর। লিচুর রাজ্য খ্যাত এই জেলার ৩ টি উপজেলায় সবচেয়ে বেশী লিচু উৎপাদিত হয়ে থেকে। লিচুর রাজ্যে ৩ উপজেলার মধ্যে বিরল অন্যতম। রসালো ও সুমিষ্ট লিচুর রাজ্যখ্যাত বিরলের লিচু ও আম বাগান গুলো এখন ছেঁয়ে গেছে মুকুলে। প্রতিটি বাগানে চলছে বাগানিদের পরিচর্যায় ব্যস্ততা, কেউ দিচ্ছেন সেচ কেউবা রাসায়নিক অনুখাদ্য। যেন ধুম পড়েছে মধুমাসকে স্বাগত জানাতে জোড় প্রস্তুতি। এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে জেলার অন্যতম সুস্বাদু লিচুর আবাস খ্যাত বিরলে উপজেলায়। দেশের হয়ে এই উপজেলার লিচু ইতিমধ্যে দেশের সীমানা পেড়িয়ে বিদেশেও কুড়িয়েছে সুনাম।

লিচুর রাজ্যে বিরল অঞ্চলে মোট ২৫৫৮ হেক্টর জমিতে ১৯৩৫টি বাগানে বাণিজ্যিক ভাবে লিচুর চাষাবাদ হচ্ছে। সুমিষ্ট রসালো এই লিচু ৬ জাতের আবাদ এই অঞ্চলে হয়ে থাকে। জাত গুলো হচ্ছে বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না ৩ ও ২, বেদেনা এবং কাঁঠালি। স্বাদ ও চাহিদায়, চায়না ৩ ও ২, বেদেনা এবং কাঁঠালি লিচুর কদর একটু বেশী। রসালো ও টসটসে পরিপক্ক লিচু খেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে মধুমাস তথা জৈষ্ঠ মাসের মাঝা মাঝি সময় পর্যন্ত। উপজেলায় সবচেয়ে বেশী লিচু উৎপাদিত এলাকা মাধববাঢি, রবিপুর, ধর্মপুর, মাটিয়ান ও খৈলতোর অঞ্চলে।

গত মৌসুমে পরিক্ষামূলক বিদেশে লিচু সফল ভাবে পাঠানোর পর, এবার আরো বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমামের নেতৃত্বে উপজেলা কৃষি বিভাগ। যৌথ ভাবে কৃষি বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে বেসরকারি সংস্থা প্রান এগ্রে ফূড এন্ড বেভারেজ। লিচু বিদেশে রপ্তানি যোগ্য করতে অঞ্চলটির মোট ৬০টি বাগান সরাসরি নিজেদের তত্বাবধানে তদারকি করছে।  বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি লিচুর সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রন রাখতে নিরলস ভাবে কাজ করছে যৌথভাবে। প্রত্যাশা বিরলের এই লিচু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুপার সপ গুলোতে জায়গা করে নিতে পারবে।

রাজ্যের সুমিষ্ট রসালো ও টসটসে পরিপক্ক লিচু মধুমাস তথা জৈষ্ঠ মাসের মাঝা মাঝি সময়ে বাজারে আসে। উপজেলার সবচেয়ে বেশী লিচু উৎপাদিত এলাকা মাধববাঢি, রবিপুর, ধর্মপুর, মাটিয়ান ও খৈলতোরের বিভিন্ন বাগানের গেলেই দেখা মিলে বাগানিদের কর্ম মুখর ব্যস্ততার দৃশ্য। বাগানিরা জানালেন পরিচর্যায় ব্যস্ততা আর সুবিধা অসুবিধার নানান কথা। তবে এবারের প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনেকটা লিচু বা আমের জন্য অনুকূলে থাকায় সেচ ও চিন্তা কম। গেলবার আবহাওয়া ও মুকুল অনেক কম ছিল। মুকুলের বদলে প্রতিটি মুকুলের কুঁড়িতে ছিল নতুন পাতার কুড়ি। তবে এবার এমনটা নেই কিছু কুড়ি আছে নতুন পাতার কিন্তু সে গুলোতেও হালকা মুকুল আছে। ঝড়ো বাতাস আর কাল বৈশাখির শঙ্কার কথাও জানাতে ভুল করলেন না। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গত বারের তুলনায় যেন বেশী লিচু উৎপাদন করা যায়। প্রত্যাশা প্রকৃতি অনূকুলে থাকলে গত বারের তুলনায় বেশী লাভবান হবেন। ৪টি বাগান লিজ নেওয়া ভবোল দিঘী এলাকার কারিমুল ইসলাম গাছের মুকুল ও কুড়ি দেখে বেশ খুশি ও আনন্দিত। গতবারের তুলনায় এবার বেশী লাভের আশায় বাগানের পরিচর্যায় কোন ঘাটতি রাখতে চান না তিনি। বাগানের বর্তমান অবস্থায় অনেক লাভবান হবেন। জিজ্ঞেস করতেই একগাল হেসে বললেন ইনশাল্লাহ দোয়া করবেন।

গত মৌসূমে কেমন দাম পেয়েছিলেন এমন প্রশ্নে বাগানিরা জানালেন বোম্বাই লিচু ২হাজার ৫ শ থেকে ২ হাজার ৮শ। মাদ্রাজি ২ হাজার থেকে ২২শ, চায়না-৩, বেদেনা ও কাঁঠালি লিচু ৪ হাজার ৫ শ থেকে ৫ হাজার ৫ শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। প্রচুর তাপে ও প্রকৃতিক কারনে অনেক বাগানের লিচু ফেটে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লিচুর বাম্পার ফলন ও গতবারের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তফা হাসান ইমাম বায়ান্নর আলোকে জানান এই অঞ্চলের সুখ্যাতি পাওয়া রসালো টসটসে এই লিচু প্রকৃতির উপরে নির্ভরশীল। তাই কৃষি বিভাগ সমসময় প্রস্তুত থাকতে হয় প্রতিকূলতা কাটানোর জন্য। লিচু বাগানিদের উচিৎ কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ রাখা। লিচুর জন্য এই সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুকুলের সঠিক পরাগায়নে গুটি না আসা পর্যন্ত কীট নাশক ও ছত্রাক নাশক পরিহার করতে হবে। ফল আসার পর টিএসপি ও এমওপি রাসায়নিক সহ  অনুখাদ্যের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। ৮/১০ দিন অন্তর অন্তর সেচ ও ছত্রাকের আক্রমণ যেমন হার্নিডিউ অর্থাৎ ফলের পচন থেকে রক্ষার্থে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে সার্বক্ষনিক।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status