ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
ফের রক্তাক্ত বাগমারা : আহত বন্ধুকে দেখতে এসে খুন হলেন সোহাগ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 3 February, 2024, 7:40 PM

ফের রক্তাক্ত বাগমারা : আহত বন্ধুকে দেখতে এসে খুন হলেন সোহাগ

ফের রক্তাক্ত বাগমারা : আহত বন্ধুকে দেখতে এসে খুন হলেন সোহাগ

বেশ কয়েক বছর শান্ত থাকার পর আবারও রক্তাক্ত হলো রাজশাহীর বাগমারা। বন্ধুর উপরে সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে আহত বন্ধুকে দেখতে এসে তার বাড়িতে পৌঁছার আগেই খুন হলেন সোহাগ। নিহত সোহাগ ( ২৬) যশোরের মনিরামপুর এলাকার শরিফ মিস্ত্রীর ছেলে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ২ ফেব্রুয়ারি, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহাগের উপর মর্মান্তিক এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মরুগ্রামে। সন্ত্রাসীদের হামলায় শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সোহাগ। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত সোহাগের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি, সকালে লাশের ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে বাগমারা থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শক্রবার ২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে মনাহার ইসলাম তাদের জমিতে থাকা সরিষা তুলতে গেলে। একই গ্রামের রহিদুল, রনি, সাজ্জাদ, আসাদুল, সবুর, লছির সহ বেশ কয়েকজন মিলে সরিষার জমিতেই সন্ত্রাসী কায়দায় বেধড়ক মারপিট করে। হামলায় আহত মনাহারকে উদ্ধার করে পাশের আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বন্ধুর উপরে সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে আহত মনাহার ইসলামের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয় সোহাগ সহ তার দুই বন্ধু।

ঢাকা থেকে ঝিকরায় আসতে সোহাগ সহ তার বন্ধুর রাত হয়ে যায়। আহত বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছার আগেই একই কায়দায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয় সোহাগ সহ তার বন্ধুরা। পরে সন্ত্রাসীরা মনাহার ইসলামের বাড়ি সহ তার চাচার বাড়িতে হামলা চালারিয়ে ভাংচুর করে। সেই সাথে নিহতের ঘটনায় কোন মামলা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঢাকার মালিবাগে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতে গিয়ে বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আনিসার রহমানের ছেলে মনাহার ইসলামের পরিচয় হয় সোহাগের সাথে। সমবয়সী হওয়ায় সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে রুপ নেয়। এসময় দুই জনেই ওই কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দেয়। চাকরি ছাড়লেও বন্ধ হয়নি তাদের যোগাযোগ।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, হামলার পর ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে নিহত সোহাগের বাবা ও ভাই এরই মধ্যে রাজশাহী এসে পৌঁছেছেন। তারা এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আটকদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলেও জানান এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য : ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাগমারার চরমপন্থী ও জেএমবির হাতে খুন ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তারা একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে চলত। এছাড়াও চাঁদাবাজিও করত ওইসব সন্ত্রাসী সংগঠন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদের হাতে নির্যাতিত হতে হতো। এ জন্য এক সময় বাগমারা দেশ ও বিদেশে রক্তাক্ত জনপদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। স্থানীয় কিছু বিপদগামীদের সহযোগিতায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসব হত্যাযজ্ঞ চালাত। তাদের অনেকেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহতও হয়েছে।

১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাগমারায় চরমপন্থীদের হাতে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ ২৫ জন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে চরমপন্থীদের হাতে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে খুন হয়েছেন যোগিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আমজাদ হোসেন, শুভডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী, গোয়ালকান্দির জাহাঙ্গীর আলম, তাহেরপুর পৌরসভার প্রথম মেয়র আলো খন্দকার, ঝিকরার ইউপি সদস্য আফসার আলী, গোয়ালকান্দির আমজাদ হোসেন বাবুল, অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ, আব্দুল হামিদ মরু, মমতাজ খামারু, গোলাম মোস্তফা খামারু, আবুল হোসেন সরকার ওরফে দুলু সরকার, মোনাক্কা, উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে ২০০৪ সাল থেকে জঙ্গিদের হাতে খুন হয় আরো আটজন। এদের মধ্যে মাড়িয়া ইউপি আওয়ামীলীগ নেতা ইয়াছিন আলী, তাহেরপুরের আ’লীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান, বিষুপাড়ার বাসদ নেতা আলী আকবর, বারুইহাটির শহিদুল ইসলাম, সাজুড়িয়ার আবু তালেব ভুট্রা, কনোপাড়ার গোলাম রাব্বানী মুকুল উল্লেখযোগ্য। এসব জঙ্গিদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরো শতাধিক মানুষ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ১৭/ডি আজাদ সেন্টার, ৫৫ পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status